নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: দিন কয়েক আগে রাজ্যের প্রতি থানা চত্বরে কালীপুজো করার নিদান দিয়ে নেট নাগরিকদের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। একজন মন্ত্রীর মুখে এমন কথা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। এবার সেই সমালোচকদের জবাব দিতে গিয়ে সিউড়ির এক সরকারি মঞ্চ থেকে সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘চুলোয় যাক মন্ত্রিত্ব, তার আগে তো হিন্দু।’
বৃহস্পতিবার সিউড়ি রবীন্দ্র সদনে এবারের পুজোয় বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী পুজো কমিটিগুলিকে ‘দেবী দুর্গা সম্মান’ প্রদান এবং জেলাস্তরের বিজয়া সম্মিলনি সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল, বিধায়ক অনুপ সাহা, দেবাশিস ওঝা, জেলাশাসক ধবল জৈন সহ প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা। এই মঞ্চ থেকেই বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক পালাবদলের তাৎপর্য তুলে ধরেন দুই মন্ত্রী।
‘থানায় কালী পুজো’ বিতর্কের রেশ ধরে জগন্নাথ বলেন, ‘এবারের পালাবদলের পরেও পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে কালীপুজো করা উচিত বললে বিভিন্ন দিক থেকে বিরোধ আসছে। বলা হচ্ছে, মন্ত্রী কেন বলছেন কালীপুজো করতে হবে? মন্ত্রী নাকি এসব বলতে পারেন না! আরে চুলোয় যাক মন্ত্রিত্ব, আগে তো হিন্দু!’ সনাতন ধর্ম বিরোধীদের কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি জেলার উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন। মন্ত্রী জানান, সিউড়ি বিধানসভায় প্রতি মাসে শুধু অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য সাড়ে বত্রিশ কোটি টাকা খরচ করছে সরকার। তাঁর কথায়, ‘এই বিপুল টাকা উন্নয়নের কাজে লাগালে সিউড়িকে সোনায় মুড়ে দেওয়া যেত। কিন্তু পরিকাঠামো উন্নয়নের চেয়ে সরকার বাংলার মায়েদের সম্মান রক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে।’ এরপরই তাঁর সংযোজন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্ন হল বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করা। ছেলেমেয়েরা পাকা চাকরি পেলে মায়েরা সগর্বে এই ভাতা সরকারকে ফিরিয়ে দিতে পারেন।’
একই মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক ঐক্যের বার্তা দেন কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘এর আগে কখনও এত আন্তরিকতাপূর্ণ অনুষ্ঠান আমরা হতে দেখিনি। তবে আমার ব্যক্তিগত মত, যারা আমাদের থেকে ভিন্ন মতাদর্শের, সেই রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও এই অনুষ্ঠানগুলিতে ডাকা উচিত।’ এতদিন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাঁদের দূরে সরিয়ে রাখলেও, এখন সমস্ত ছুঁৎমার্গ সরিয়ে রেখে বিরোধীদের সঙ্গে মিশে তাঁদের মানসিকস্তরের পরিবর্তন ঘটানোর পক্ষে সওয়াল করেন কৃষিমন্ত্রী।



