সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: কলাবাড়ি চা বাগানে খাঁচা বসেছে বটে, কিন্তু শিশুকে তুলে নিয়ে যাওয়া সেই চিতাবাঘ এখনও ধরা পড়েনি। উলটে শ্রমিক লাইনে ঢুকে শূকর, ছাগল শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে। দিনের বেলাতেও চিতাবাঘের দেখা মিলছে। কাজে যাওয়ার সময় বাজি ফাটিয়ে চা পাতা তোলার কাজে যোগ দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের। শিশুদের স্কুলে যাওয়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। সব মিলিয়ে তটস্থ চা শ্রমিকরা।
গত শুক্রবার বানারহাটের এই চা বাগানে সাড়ে তিন বছরের আয়ূষ কালান্দিকে মুখে করে তুলে নিয়ে যায় চিতাবাঘ। পরে চা বাগানের ১৮ নম্বর সেকশন থেকে শিশুটির ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। তারপর বনদপ্তর এসে চারটি ট্র্যাপ ক্যামেরা, তিনটি খাঁচা পাতার ৭২ ঘণ্টা পরও ধরা পড়েনি চিতাবাঘটি। ভয়ে শিশুদের ঘরবন্দি করে রাখছেন অভিভাবকরা। চা বাগানের গাড়া লাইনের রাম ওরাওঁ বলেন, চিতাবাঘ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। রবিবার বাড়ির গোয়াল থেকে একটি বাচ্চা শূকরকে চিতাবাঘ তুলে নিয়ে গিয়েছে। তাই ঘরের দরজা বন্ধ করে সন্তানদের বন্দি করে রাখতে হচ্ছে।
এদিকে, বাগানের কর্মী নবীন ছেত্রী জানান, ১৩, ১৮ এবং ২০ নম্বর সেকশনে ট্র্যাপ ক্যামেরা ও খাঁচা বসানো হয়েছে। অথচ চিতাবাঘ এখনও ধরা পড়েনি। দিনের বেলা পাতা তুলতে গিয়ে আগে চা গাছের ফাঁকে বাজি ফাটিয়ে চিৎকার, চেঁচামেচি করার পর সবদিক দেখে কাজে যোগ দিচ্ছি। শ্রমিক সুধন খেড়িয়ার কথায়, বিভিন্ন সেকশনের চা গাছের নীচে রাস্তায় তিন থেকে চারবার চিতাবাঘ দেখা যাচ্ছে। বাজি ফাটিয়ে তবেই পাতা তুলতে বাগানে ঢুকছি। এদিকে আয়ূষের আত্মীয় জাকসার খেলোয়াড় জানান, এভাবে চিতাবাঘের আতঙ্ক নিয়ে কতদিন বাঁচা যায় বলুন? ঘরে, বাইরে শান্তি নেই।
ডায়নার রেঞ্জার অশেষ পাল বলেন, আমরা সবসময় চা বাগানে টহল দিচ্ছি। বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডের রেঞ্জার হিমাদ্রী দেবনাথের মন্তব্য, ঘটনার পরের দিন তিনটি খাঁচা পাতার পাশাপাশি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয়েছে। লাগাতার নজরদারি চলছে। চা পাতা তোলার আগে চকোলেট বোমা ফাটাচ্ছেন শ্রমিকরা। - নিজস্ব চিত্র।