অবার্ন: রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই ওবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামে উল্লাস। ‘মেসি, মেসি’ স্লোগানে কান পাতা দায়। সেই উন্মাদনার মধ্যেই আইসল্যান্ডের এক তরুণ ফুটবলার এগিয়ে এলেন মেসির দিকে। মৃদু স্বরে বললেন, ‘হ্যালো, আমায় চিনতে পারছেন?’ লিও অবাক! কয়েক সেকেন্ড তাঁর মুখের দিকে চেয়ে থাকলেন। কিন্তু, চিনতে পারলেন না। আর্জেন্তাইন মহাতারকা কিছু বলতে যাওয়ার আগেই ছেলেটির সংযোজন, ‘আমি এইডার গুডজনসেনের ছেলে ড্যানিয়াল।’ অমনি মেসির মুখে খেলে গেল অনাবিল খুশির ঝিলিক।
আইসল্যান্ড ফুটবলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার এইডার গুডজনসেন ছিলেন মেসির একসময়ের সতীর্থ। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলেছেন তাঁরা। পেপ গুয়ার্দিওলার কোচিংয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগও। এইডারেরই ছেলে ড্যানিয়াল, যার জন্ম ২০০৬ সালে। হাঁটতে শেখার পর বাবার সঙ্গে মাঝেমধ্যে বার্সার অনুশীলনেও আসত। সেই ড্যানিয়াল এখন ২০ বছরের যুবক! বাবার মতোই বেছে নিয়েছেন ফুটবলকে। শুধু তাই নয়, আইসল্যান্ড দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে পা রেখেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে বুধবারের প্রস্তুতি ম্যাচের শেষে রীতিমতো রোমাঞ্চিত ড্যানিয়াল। আইসল্যান্ড ০-৩ গোলে হারলেও মাঠে মেসিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর খুশিতে তিনি ডগমগ। আবেগপ্রবণ দেখাল এলএমটেনও। মাঠ ছাড়ার সময় মেসি বলছিলেন, ‘ড্যানিয়াল এসে আমায় জিজ্ঞাসা করছিল, আমি তাকে চিনতে পারছি কিনা? সত্যিই আমি ওকে চিনতে পারিনি। তারপর ও যখন এইডারের ছেলে হিসেবে পরিচয় দিল, তখন খুব ভালো লাগল।’
কথাগুলো বলার সময় মেসির চোখেমুখে ধরা পড়ল তৃপ্তির হাসি। দুই প্রজন্মের সঙ্গে মাঠ দাপানো তো আর কম কৃতিত্বের নয়! বন্ধুর ছেলেকে জড়িয়ে স্নেহের বার্তালাপ তারই নিদর্শন।