আটালান্টা: রবিবার নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন নেইমার। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পর্তুগালের হারে একই হাল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। তবে মঙ্গলবার মিশরের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর লায়োনেল মেসির চোখে জল দেখে অবাক হয়েছিলেন অনেকেই। ম্যাচ জয়ের পর গোটা দল যখন মাঠে সেলিব্রেশনে মত্ত, তখন একাকী মেসি কেঁদেই চলেছেন। দু’হাতে মুখ চেপে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন আর্জেন্তাইন মহাতারকা। তবে দ্রুত নিজেকে সামলে যোগ দেন জয়ের উৎসবে। দলের সেরা ফুটবলারদের কাঁদতে দেখে মন ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে গোটা আর্জেন্তিনা শিবিরের। চোখের পলকেই বাঁ পায়ের জাদুকরকে কাঁধে তুলে নেন এনজো ফার্নান্ডেজ-ডে পলরা। শূন্যে ছুঁড়ে চলে বাঁধনছাড়া সেলিব্রেশন। নিমেষেই মেসির কষ্ট বদলে যায় আনন্দে।
তবে ম্যাচ জয়ের পর হঠাৎ কেন কাঁদলেন, তা ম্যাচের সেরার পুরস্কার হাতে খোলসা করলেন লিও। মেসি জানান, ‘সত্যি বলতে, পেনাল্টি মিসের পর নিজের উপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলাম। নিজের হাতেই দলকে বিপদের মুখে ঠেলে দিই। সতীর্থদের হতাশ করেছিলাম। তাই রাগ থেকেই বেরিয়ে আসে কান্না। তবে শেষ পর্যন্ত দল জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। এর থেকে আর ভালো কী-ই হতে পারে।’
ম্যাচের ৮৩ মিনিটে দলকে সমতায় ফিরে সেলিব্রেশনে মাতেন বাঁ পায়ের জাদুকর। কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে দু’বার শূন্যে লাফান তিনি। এরপর অবশ্য অনুরাগীদের ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি তিনি। এই প্রসঙ্গে লিওর সংযোজন, ‘ম্যাচে দু’গোলে পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফেরাটা আমাদের সকলের কাছে ছিল স্বস্তির। তাই আর আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারিনি।’
এদিকে, মঙ্গলবার মিশরের বিরুদ্ধে জয়ের পর আবেগপ্রবণ দেখায় মেসিদের হেড স্যার স্কালোনিকে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমি খুবই আবেগপ্রবণ। তাই অল্পতেই কেঁদে ফেলি। চেষ্টা করি যতটা সম্ভব নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে। তাই ছেলেরা আমাকে কাঁদুনে শিশু বলেই ডাকে। তবে এই লড়াইয়ে আমি গর্বিত।’