শিশির ঘোষ: অবিশ্বাস্য। অনবদ্য! এমন জয়ের জন্য কোনো বিশ্লেষণই যথেষ্ট নয়। দল দু’গোলে পিছিয়ে। হারলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত। তারউপর ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিস। মঙ্গলবার আর্জেন্তিনা হারলেই হায়নার মতো ধেয়ে আসত সমালোচনার তির। মুণ্ডপাত করতেন মেসি হেটাররা। সেই জায়গা থেকে এমন প্রত্যাবর্তন চ্যাম্পিয়নদের পক্ষেই সম্ভব। মিশরের লড়াইকে বিন্দুমাত্র খাটো না করে বলছি, যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে আর্জেন্তিনা। বিশেষত শেষ ১৫ মিনিটে যে ফুটবল মেসিরা খেলেছে, তাতে বিশ্বের কোনো দলই তাদের বিরুদ্ধে পেরে উঠত না। এই আর্জেন্তিনাকেই আমরা দেখতে চাই। ম্যাচের পর বারবার ২০২২ বিশ্বকাপের কথা মনে পড়ছিল। সেই হার না মানা মানসিকতা। শেষ মিনিট পর্যন্ত অদম্য জেদ।
কাতারের মাটিতে অধরা মাধুরী লাভের স্বাদ পেয়েছিল লিও মেসি। দীর্ঘ কেরিয়ারের বৃত্ত পূর্ণ হয়। অনেকেই বলেছিলেন, ওর আর নতুন করে কিছু পাওয়ার নেই। হয়তো দেওয়ারও নেই। সেই সকল বোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে আমার একটাই বার্তা— ওহে, ওর নাম মেসি। চ্যাম্পিয়নদের খিদে কখনও শেষ হয় না। লিও সবার উপরে। আর কতবার সে নিজেকে প্রমাণ করবে? দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে এই কাজটাই মেসি করে চলেছে। মিশরের বিরুদ্ধে পেনাল্টি মিসের পরও যেভাবে শেষ পর্যন্ত নিজেকে নিংড়ে দিল, তা সত্যিই অতুলনীয়। সেই সঙ্গে ‘চ্যাম্পিয়ন্স লাক’ ফ্যাক্টর বারবার কাজ করছে।
এবারের বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আর্জেন্তিনাকে অতিরিক্ত মেসি নির্ভর দেখাচ্ছে। ব্যক্তিগত নৈপু্ণ্যে বাঁপায়ের জাদুকরও দলকে উতরে দিয়েছে। তবে মিরাকল রোজ রোজ ঘটে না। সেটা মাথায় রাখা উচিত। তাই দ্রুত সেই নির্ভরতা কাটাতে হবে। বিশেষত বিশ্বকাপের আসরে এমন তুল্যমূল্য লড়াই খুব কম দেখা যায়। প্রতি ম্যাচেই থাকছে নিত্য নতুন চমক। মর্ডান ফুটবলে প্রথম সারির দলগুলির সঙ্গে বাকিদের পার্থক্য যে অনেকটাই কমে আসছে, তা এবারের বিশ্বকাপে জ্বলন্ত উদাহরণ। তাই শেষ আটের লড়াইয়ে নামার আগে স্কালোনিকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। বিশেষত রক্ষণের গলদ না মেটালে মুশকিল। আসলে এই আর্জেন্তিনা ডি মারিয়ার অভাব ঢাকতে ব্যর্থ। একই সঙ্গে মাঝমাঠে বল হোল্ড করে খেলার লোক কোথায়!
গত বিশ্বকাপে বিপক্ষ মেসিকে মার্ক করলে বাকিরা সুবিধা নিত। এবার লাওতারো মার্তিনেজ-জুলিয়ান আলভারেজরা সেটা ঠিকঠাক করতে পারছে না। তাই কেপ ভার্দে, মিশরের মতো দলের বিরুদ্ধে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে আর্জেন্তিনাকে। কোয়র্টার-ফাইনালের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ সুইৎজারল্যান্ড। যারা কলম্বিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করেছে। কোচ লায়োনেল স্কালোনিকে দ্রুত ভুলগুলি শুধরে নিতে হবে। না হলে রোজ রোজ কিন্তু ১৩ মিনিটে ৩ গোল আসবে না।