অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়: নীল জার্সি, নীল প্যান্ট। দু’হাতের তালু ঘষতে ঘষতে মাঠে নামলেন কিলিয়ান এমবাপে। অধিনায়ককে মাঠে ঢুকতেই বাকিদের কাছে ডেকে নিলেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁ। এরপর ছোট্ট বৈঠক সেরে নিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হচ্ছে তাঁর দল। সাড়ে তিন বছর আগে কাতারে অবশ্য শেষ চারে আচরাফ হাকিমিদের কঠিন চ্যালেঞ্জ টপকে ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স। সেই ম্যাচের স্মৃতি আজও টাটকা ফরাসি কোচের মনে। তাই বুধবার ফুটবলারদের আত্মতুষ্ট হতে বারণ করলেন তিনি। কোচের পেপটক শুনে ফুটবলারদের শিরদাঁড়াও টানটান। এবারও যে কাপ জিততেই আমেরিকা এসেছেন ওসুমান ডেম্বেলেরা।
মরক্কো দল যথেষ্ট শক্তিশালী। রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণে ভারসাম্যের অভাব নেই। চলতি আসরে এখনও পর্যন্ত তারা অপরাজিত। তাই সাবধানী অভিজ্ঞ ফরাসি কোচ। তবে তাঁকে স্বস্তি দিচ্ছে দলের ফিটনেস। দেশঁর প্রথম একাদশে এখনও বড়ো কোনও চোট থাবা বসায়নি। ফলে পূর্ণশক্তির স্কোয়াড নিয়েই হাকিমিদের বিরুদ্ধে নামবে ফ্রান্স। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে চোট-চিন্তা রয়েছে মরক্কো শিবিরে। শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডার বিরুদ্ধে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগার কারণে উঠে যেতে হয় অ্যাটাকার ইসমাইল সাইবারিকে। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে অনিশ্চিত তিনি। পাশাপাশি চোট রয়েছে অভিজ্ঞ সেন্টার ব্যাক শাদি রিয়াদের। তাঁর মাঠে নামা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
বিশ্বকাপ খেলতে এসে বোস্টনে ঘাঁটি গেড়েছে ফ্রান্স। এই স্টেডিয়ামেই গ্রুপ পর্বে আর্লিং হালান্ডের নরওয়েকে সহজে বশ মানিয়েছিলেন এমবাপেরা। সেই ম্যাচে অসাধারণ হ্যাটট্রিক ছিল ডেম্বেলের। এই বিশ্বকাপে সোনার বুটের দৌড়ে প্রবলভাবে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। এই মুহূর্তে তাঁর ও হালান্ডের গোলসংখ্যা ৭। মিশরের বিরুদ্ধে জাল কাঁপিয়ে শীর্ষে মেসি (৮)। এমবাপে ও ডেম্পেলের সঙ্গে বারকোলা এবং ওলিসের মসৃণ বোঝাপড়াই ফ্রান্সের মূলধন। দেশঁ চাইবেন, এই চতুর্ভুজের চাপেই দ্রুত কাঙ্ক্ষিত গোল তুলে নিয়ে মরক্কোকে চাপে ফেলতে। তবে হাকিমি জানিয়েছেন, ‘গত বিশ্বকাপে ফ্রান্সের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছিলাম আমরা। এবার তার পুনরাবৃত্তি হবে না। চোখে চোখ রেখে লড়াই করার জন্য মরক্কো তৈরি।’ পরিসংখ্যান বলছে, দুই দলের মুখোমুখি সাক্ষাতেও এগিয়ে ‘লে ব্লুজ’। শেষ ৬টি দ্বৈরথে ৪ বার জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আইফেল টাওয়ারের দেশ। এবারও ৯০ মিনিটেই ম্যাচ শেষ করতে মরিয়া দেশঁ ব্রিগেড। তবে দুই দলের কাছেই আবহাওয়া চিন্তার কারণ হতে পারে। পূর্বাভাস বলছে, বৃহস্পতিবার সর্বাধিক ৩২ ডিগ্রি উঠতে পারে তাপমাত্রা। পাশাপাশি নেট দুনিয়া উত্তাল এই ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া চার আর্জেন্তাইন রেফারিকে নিয়ে। সামাজিক মাধ্যম জুড়ে একটাই পোস্ট, ‘আর্জেন্তাইন রেফারিদের দিয়েই ফ্রান্সকে গায়েব করে দিতে চায় ফিফা।’