Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাকিমপুর চেকপোস্টে ছড়িয়ে পড়ে রয়েছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ‘বৈধ’ নথি!

কিছুদিন আগেও এই কাগজগুলো ছিল তাঁদের বাংলায় থাকার ‘পাসপোর্ট’! এগুলির জোরেই ‘অনুপ্রবেশকারী’ হয়েছিলেন ‘বৈধ’ ভারতীয়। ভোটার কার্ড, আধার, প্যান—সবই আছে তার মধ্যে।

হাকিমপুর চেকপোস্টে ছড়িয়ে পড়ে রয়েছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ‘বৈধ’ নথি!
  • ৩০ মে, ২০২৬ ০৪:০০

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: কিছুদিন আগেও এই কাগজগুলো ছিল তাঁদের বাংলায় থাকার ‘পাসপোর্ট’! এগুলির জোরেই ‘অনুপ্রবেশকারী’ হয়েছিলেন ‘বৈধ’ ভারতীয়। ভোটার কার্ড, আধার, প্যান—সবই আছে তার মধ্যে। কাজ পেতে, বাড়ি ভাড়া নিতে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে কিংবা সরকারি সুবিধা পেতে কাজে লাগত এসব নথি। অথচ উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর চেকপোস্টে দেখা গেল এসব নথি ছিঁড়ে রাস্তার ধারে ফেলে দিচ্ছেন অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিরা। 

Advertisement

রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আসার পর রাজনৈতিক মঞ্চে ফের জোরালো হয়েছে ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যু। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তাঁর সেই কড়া মন্তব্যের পর থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় চাপা আতঙ্ক ছড়িয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। গত প্রায় এক সপ্তাহ হাকিমপুর চেকপোস্টে অস্বাভাবিক ভিড় নজরে পড়ছে। কারও মাথায় কাপড়ে বাঁধা পুঁটুলি, কারও হাতে পুরানো ট্রলি ব্যাগ, কারও কোলে ছোটো শিশু। ভিড়ের মধ্যে মুখ নীচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন বছর ৪৫-এর আব্দুল করিম। তিনি আদলে বাংলাদেশের সাতক্ষীরার বাসিন্দা। হাতে ধরা ভারতীয় আধার কার্ড দেখিয়ে বললেন, ‘এই কাগজ বানাতে কত দৌড়েছি জানেন? কত টাকা খরচ হয়েছে! তখন মনে হয়েছিল, এটা পেয়ে গিয়েছি মানে নিশ্চিন্ত। এখন এই কাগজটাই বিপদ ডেকে আনছে।’ কথা শেষ করেই হাতের আধার কার্ড ফেলে দিলেন চেকপোস্ট সংলগ্ন ফাঁকা জমিতে। একই হতাশা শোনা গেল বাংলাদেশের নোয়াখালির বাসিন্দা রহিম মোল্লার গলায়। তিনি বললেন, ‘ভোটার কার্ড ছিল বলেই কাজ পেয়েছিলাম। বাড়ি ভাড়াও মিলেছিল। ভোট দিয়েছিলাম। এখন সেই কার্ড দেখাতে ভয় লাগছে। সবাই সন্দেহের চোখে দেখছে।’ ফরিদপুরের সুমাইয়া সুলতানার কথায়, ‘আমি থাকতাম শাসনের বেলিয়াঘাটায়। কাজ করতাম একটা ইটভাটায়। তৃণমূল নেতারা মোট ১২ হাজার টাকা নিয়েছিল ভোটার আর আধার কার্ড করাতে। আমার সন্তানের বয়স সাড়ে চার বছর। সে শাসনের স্কুলেই পড়ত। এখন ওসবের কোনো দাম নেই।’ 
প্রসঙ্গত, স্বরূপনগরে তিনটি হোল্ডিং সেন্টার আপাতত চালু রেখেছে প্রশাসন। তেঁতুলিয়ায় ‘পথের সাথী’, চারঘাট হাইস্কুল সংলগ্ন ফ্লাড শেল্টার ও মেদিয়ার একটি স্কুলে রাখা হয়েছে অনুপ্রবেশকারীদের। সর্বত্রই পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আটক লোকজনের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয় দেখভালের জন‍্য মোতায়েন করা হয়েছে আশাকর্মীদের।

সম্পর্কিত সংবাদ