


সংবাদদাতা, বোলপুর: মনোনয়ন প্রক্রিয়া ঘিরে জমজমাট চিত্র ধরা পড়ল বোলপুর মহকুমা এলাকায়। দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব কাটিয়ে বাম-আইএসএফ জোট এদিন একসঙ্গে মিছিল করে মনোনয়ন জমা দিতে আসে। অন্যদিকে বাঁশি বাজিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়ে মনোনয়ন দাখিল করেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থীরা। কংগ্রেসকে দেখা যায় তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্নভাবেই মনোনয়ন জমা দিতে। শনিবার সকালে বোলপুর মহকুমার অধীনে লাভপুর, নানুর ও বোলপুর এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা একে একে বোলপুর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
বোলপুর বিধানসভার আইএসএফ প্রার্থী বাপি সোরেন, কংগ্রেস প্রার্থী রথিন সেন এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী সৈয়দ সারওয়াদ্দি মনোনয়ন দাখিল করেন। নানুর বিধানসভায় সিপিএম প্রার্থী শ্যামলী প্রধান, কংগ্রেসের অভয় দাস ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চিরন দাস মনোনয়ন জমা দেন। লাভপুর বিধানসভায় কংগ্রেস প্রার্থী রত্না সেন, সিপিআইএম প্রার্থী মনসা হাঁসদা ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সামাদ শেখ মনোনয়ন দাখিল করেন। বোলপুর বিধানসভার আইএসএফ প্রার্থী বলেন, প্রথম দিকে জোটের আসন নিয়ে একটু সমস্যা হলেও এখন তা আলোচনার মাধ্যমে মিটে গিয়েছে। আমরা যৌথভাবেই প্রচারে নেমেছি। মনোনয়নপত্রও জমা দিলাম। আগামী দিনে আমরা একসঙ্গেই লড়ব। জয়ের ব্যাপারে ৯৯ শতাংশ আশাবাদী। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর নানুর বিধানসভার সিপিএম প্রার্থী শ্যামলী প্রধান বলেন, আমাদের এবারের ইস্যু শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কর্মসংস্থান নিয়ে। সব ধরনের মানুষ আমাদের পাশে আছে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার মানুষের প্রতি অবিচার করেছে। তাই এই নির্বাচনে এলাকার মানুষ বিকল্প হিসাবে আমাদের সঙ্গেই আছে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বোলপুর মহকুমায় তৃণমূল ও বিজেপির ছ’জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। সেদিন দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে স্লোগান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সাময়িক উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে এদিন কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করে পুলিশ-প্রশাসন। এদিন বোলপুর মহকুমার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দলীয় কর্মী-সমর্থকরা প্রার্থীদের সঙ্গে মনোনয়ন জমা দিতে এলেও নির্দিষ্ট একটি জায়গায় তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। তবে, ওই চত্বরে সামগ্রিকভাবে যানবাহন চলাচল ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল। এদিন মনোনয়ন জমা দিয়ে সব দলের প্রার্থীরাই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানান। মনোনয়ন পর্ব শেষ হতেই তাঁরা জোরকদমে প্রচারে নামার কথা জানান। এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অনেক মানুষকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত ট্রাইবুনাল কোর্টে সংশোধনী সংক্রান্ত কাজের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তারপর তাঁদের মহকুমা অফিসে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়। • এনানুরের সিপিএম প্রার্থী শ্যামলী প্রধান ও বোলপুরের আইএসএফ প্রার্থী বাপ