নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একসময় বামফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল ছিল ডেমোক্রেটিক স্যোশ্যালিস্ট পার্টি (প্রবোধচন্দ্র)। বামফ্রন্ট আমলে ডিএসপি (প্রবোধচন্দ্র) থেকে তিনি একাধিকবার বিধায়ক, এমনকী মন্ত্রীও হয়েছেন। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন প্রবোধচন্দ্র সিনহা। সেই দলের অস্তিত্বটুকুও এবার বিলোপ করে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন! গোটা দেশে মোট ৩৪৫টি রেজিস্টার্ড আন রেকগনাইজড রাজনৈতিক দলের নথিভুক্তিই বাতিল করেছে কমিশন। এর মধ্যে সাতটি দল পশ্চিমবঙ্গের। তার মধ্যে ডিএসপি (প্রবোধচন্দ্র) ছাড়াও আছে ইন্ডিয়ান পিপলস ফরওয়ার্ড ব্লক নামেও একটি দল। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু প্রতিষ্ঠিত ফরওয়ার্ড ব্লক বামফ্রন্ট সরকারে গুরুত্বপূর্ণ শরিক ছিল। ফরওয়ার্ড ব্লক নির্বাচন কমিশন স্বীকৃত রাজ্য পর্যায়ের রাজনৈতিক দল এবং বামফ্রন্টের অংশ। দলের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় জানান, স্বীকৃতি বাতিল হওয়া দলটির সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে বেরিয়ে গিয়ে কয়েকজন ওই দলটি তৈরি করলেও এখন তাদের কোনও অস্তিত্ব নেই। তবে ডিএসপি (প্রবোধচন্দ্র)’র ক্ষেত্রে ব্যাপারটা কিছুটা আলাদা। দলটির অস্তিত্ব থাকার সময়কার প্রবীণ নেতা হৃষীকেশ পাড়িয়া জানালেন, ২০১৮ সাল নাগাদ তাঁদের দলটি উঠিয়ে দিয়ে শারদ পাওয়ারের এনসিপি’র সঙ্গে যুক্ত করা হয়। প্রবোধবাবু এখন এনসিপি (শারদ পাওয়ার)-এর রাজ্য সভাপতি। এনসিপি’র সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। তা সত্ত্বেও স্বীকৃতি বাতিল হওয়া রাজনৈতিক দলগুলির তালিকায় ডিএসপি’র নাম কেন রাখা হল, সেটা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। মূলত দুটি কারণে ৩৪৫টি দলের স্বীকৃতি বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। একটি হল, এই দলগুলি ২০১৯ থেকে কোনও ভোটে অংশ নেয়নি। দ্বিতীয়টি হল ওই দলগুলির রেজিস্টার্ড ঠিকানায় গিয়ে দেখা গিয়েছে সেখানে তাদের কোনও অস্তিত্বই নেই। প্রসঙ্গত, নির্দিষ্ট শতাংশের ভোট বা লোকসভা-বিধানসভায় আসন পেলে একটি রাজনৈতিক দল জাতীয় বা রাজ্য পর্যায়ের স্বীকৃতি পায়। তার বাইরে প্রচুর রাজনৈতিক দল আছে যেগুলি কমিশনের খাতায় রেজিস্টার্ড আনরেকগনাইজড রাজনৈতিক দল হিসেবে নথিভুক্ত। কিন্তু এই স্বীকৃতি বজায় রাখতে গেলে দলগুলিকে ভোটে লড়াই করতে হয়।



