সোহম কর, কলকাতা: আধুনিকতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে যাচ্ছে শহর কলকাতা। পুজোর শহরে সেই বদলের আরও এক ঝলক দেখাচ্ছে দক্ষিণ কলকাতা। গড়িয়াহাট চত্বর থেকে রাসবিহারী মোড় পর্যন্ত রাস্তার দু-ধারে জায়গা করে নিয়েছে ‘এলইডি হোর্ডিং’। গত বছরও এলইডি হোর্ডিং বসেছিল। কিন্তু তার সংখ্যা ছিল কম। এবছর আরও খানিক বেড়েছে। আগামী দিনে কি পুজোর সময় গোটা শহর ছেয়ে যাবে এমন অস্থায়ী এলইডি হোর্ডিংয়ে? বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গে বাঙালি কি তবে আরও একধাপ এগিয়ে গেল? এখন এই প্রশ্নই ঘুরছে।
তবে এই এলইডি হোর্ডিং নিয়ে আবার বিরূপ প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। বয়স্ক মানুষরা বলছেন, এলইডির আলোর ঝলকানিতে চোখ ঝলসে যায়। হোর্ডিংগুলো এতই বড়ো যে, চারপাশের ছোটো দোকানগুলো চোখেই দেখা যায় না। আর পুজো কমিটির কর্মকতারা বলছেন, বাজারের চাহিদা এমনই। সেই অনুযায়ীই চলতে হচ্ছে। রাস্তা দিয়ে চলার সময় দু-পাশ দিয়ে আচমকাই দেখা যাচ্ছে, নতুন জামা পরে মডেলরা দৌড়ে আসছেন। কিংবা জনপ্রিয় অভিনেত্রীর ছবি ভেসে উঠছে। লম্বা এলাকাজুড়ে এলইডিতে এমন উজ্জ্বল আলোর হোর্ডিং দেখে অনেকেই চমকে উঠছেন। এসবের পাশে ফ্লেক্সের হোর্ডিং যেন একেবারেই বেমানান। বয়স্ক মানুষরা বলছেন, ‘এককালে শহরে কাপড়ের হোর্ডিং দেখা যেত। সেখানে হাতে লেখা থাকত বিজ্ঞাপন। তারপর এলো ফ্লেক্স। এখন এলইডি।’ দেশপ্রিয় পার্ক দুর্গোত্সব কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত কুমার বলছিলেন, ‘যুগ বদলাচ্ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের এগোতেই হবে। স্পনসরদের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। ৮-১০ বছর বাদে হয়তো দেখা যাবে, অন্যকিছু চলে এসেছে। আগে কাপড়ের ছিল। তারপর এখনও ফ্লেক্স চলছে।’ ফ্লেক্সের চেয়ে এই এলইডির খরচও প্রচুর। কিন্তু তা পথচলতিদের দৃষ্টি আকর্ষণও দ্রুত করে। কীরকম খরচ? সুদীপ্তবাবু বলছিলেন, ‘১৫ বাই ৬-এর ব্যানারে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ৬০০ ফুটের এলইডি দেড় কোটি টাকা।’ আর বয়স্কদের সমস্যা নিয়ে উদ্যোক্তার বক্তব্য, ‘সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। সব জিনিসেরই দুটো দিক আছে। তরুণদের কাছে আবার এটাই ভালো লাগে।’
অন্যদিকে, দুর্গাপুজো গবেষক অধ্যাপক তপতী গুহঠাকুরতা বলছিলেন, ‘এখন বিজ্ঞাপনের ভাষা একেবারেই বদলে গিয়েছে। যেটা আমার খুব একটা ভালো লাগে না। তাছাড়া রাস্তার দু-পাশে এমন বিজ্ঞাপনে ছোটো দোকানগুলো দেখা যাচ্ছে না। আমরা বলি, দুর্গাপুজো একটা পাবলিক আর্ট। ২০২২ ও ২০২৩ সালে পুজো শিল্প নিয়ে আকটা আলোচনা হয়েছিল। সেখানে অনেকেই বলেছিলেন, বিজ্ঞাপনের সংখ্যা ও ধরনের উপর একটা নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার। আগে তো বিজ্ঞাপনের বিষয়টাও কম ছিল। আগে পুজো মানে ছিল প্যান্ডেল এখন তো বিজ্ঞাপনের শহর হয়ে গিয়েছে।’