Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

বাংলায় ওলিম্পিক অ্যাকাডেমি খোলার পরিকল্পনা লিয়েন্ডারের

বাংলায় ওলিম্পিক অ্যাকাডেমি খোলার পরিকল্পনা লিয়েন্ডারের
  • ১২ মে, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: প্রত্যেক রবিবার বছর পাঁচেকের ছেলেটা বাবার ওলিম্পিকের পদক নেড়েচেড়ে দেখত। সযত্নে পরিষ্কার করত। মনের আনাচে-কানাচে জন্ম নিত অজস্র প্রশ্ন। কেন পদকে পাঁচটা রিং? প্রতিটার রংই বা আলাদা কেন? সাধ্যমতো উত্তর দিতেন বাবা। কে ভেবেছিল, একদিন সেই ছেলেটার হাতেই উঠবে প্রথম ভারতীয় হিসেবে ওলিম্পিকসের ব্যক্তিগত ইভেন্টের পদক! লিয়েন্ডার পেজের বর্ণময় কেরিয়ারে রয়েছে অজস্র মণি-মুক্তো। তবে ১৯৯৬ আটালান্টা ওলিম্পিকসের ব্রোঞ্জ তার মধ্যেও অনন্য। খেলা ছাড়ার পর কেরিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংসেও স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হতে চাইছেন পেজ। ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে যাচ্ছেন নিজের ছেলেবেলায়। গড়ে তুলতে চাইছেন আগামীর লিয়েন্ডারদের। আর তা বাংলার মাটিতেই। রবিবার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে ৩২তম পি সি চন্দ্র পুরস্কার নিয়ে সেই স্বপ্নের কথাই শোনালেন ৫২ বছর বয়সি মহাতারকা।

Advertisement

পেজের জীবনের ‘লাকি’ সংখ্যা হল ৫। এই পুরস্কার সেজন্যই হয়ে উঠছে স্পেশাল। ৩২তম মানে যে তিন প্লাস দুই অর্থাৎ ৫! ডিজাইনার পাঞ্জাবিতে ঝকঝকে লি’কে আবেগতাড়িত দেখাল মাতৃদিবসে মা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সামনে পুরস্কার হাতে। বলেও দিলেন, ‘মা সামনে বসে। সেজন্যই অন্য অনুভূতি হচ্ছে। প্রত্যেক মাকে আমার প্রণাম।’ একইভাবে জওয়ানদের জন্যও থাকল সেলাম। তাঁর কথায়, ‘আই ব্লিড ব্লু। তেরঙা আমার রক্তে। সেজন্যই ফৌজিদের জন্য প্রাণ কাঁদছে। ওরা প্রাণের ঝুঁকি দিয়ে সুরক্ষা দিচ্ছে। ওদের আত্মত্যাগের জন্যই আমরা রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারছি। জয় হিন্দ!’
কলকাতা থেকে উঠে এসে একের পর এক গ্র্যান্ড স্ল্যামে বাজিমাত করেছেন তিনি। রূপকথাও যেন হার মানে এই সাফল্যের সামনে। এর রেসিপি কী? লিয়েন্ডারের জবাব, ‘আমি মোস্ট ট্যালেন্টেড ছিলাম না। হেরেছিও প্রচুর। ভারত থেকে অতীতে টেনিসে কেউ ওলিম্পিকসে পদক পায়নি, গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতেনি। লড়াই তই কঠিন ছিল। আগাসি, সাম্প্রাসদের বিরুদ্ধে হোমওয়ার্ক, প্যাশন, খিদে দিয়ে লড়ে গিয়েছি। থেমে যাইনি। কীভাবে আরও ভালো করা যায়, তার জন্য অক্লান্তভাবে খেটেছি। আর সেটাই আসল। প্রতিটা সকাল মানেই নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ আর হাজারো স্ট্রেস। সেটাকে নিজের মতো করে মোকাবিলা করতে হবে। তবেই চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব।’
একই মন্ত্রে অ্যাকাডেমি গড়ার ভাবনা। দু’চোখে সেই স্বপ্নই ঝলমলে, ‘ভুবনেশ্বরে ১৬টা খেলার জন্য গড়ছি অ্যাকাডেমি। ২৫টা টেনিস কোর্ট থাকছে। তিরন্দাজি, সাঁতার, সাইক্লিং, কুস্তি, কবাডি, ব্যাডমিন্টন ছাড়াও থাকছে ক্রিকেট। জোর দিচ্ছি ক্রীড়াবিজ্ঞানে। ছোটদের সঠিকভাবে গাইড করা জরুরি। এই অ্যাকাডেমি পশ্চিমবঙ্গেও করতে চাই। রাজারহাট, নিউটাউন, শিলিগুড়ি— যেখানেই জমি পাব দ্রুত কাজ শুরু করে দেব। দিদি (মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়), কেএমডিএও-র সঙ্গে কথা বলব। প্রয়োজনে সৌরভদার সাহায্য নেব। আমরা দু’জনেই বাঙালি, একই মাটি থেকে উঠে এসেছি।’ বাংলার প্রতি টান, আন্তরিকতা কথাতেই স্পষ্ট!
নবীন প্রজন্মের সামনে অনুপ্রেরণা হিসেবে রাখছেন নীরজ চোপড়াকে। ওলিম্পিকসে জোড়া পদকজয়ীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়ে লিয়েন্ডার  পেজ বলেন, ‘ফ্যান্টাস্টিক। ভালো লাগছে, আমার পর থেকে ওলিম্পিকসে আরও অনেক ব্যক্তিগত পদক আসছে। আর নীরজ চোপড়া এমন এক খেলাকে তুলে ধরেছে যা তেমন প্রচলিত নয়। সেজন্যই ও গ্রেট।’ এক চ্যাম্পিয়নই তো পারেন আর একজন বিজয়ীকে নিয়ে এভাবে উচ্ছ্বসিত হতে!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ