নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গ্যাংস্টার থেকে জঙ্গি হওয়া পাকিস্তানের শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের নয়া ‘হাব’ এখন বাংলাদেশ। সীমান্ত পেরিয়ে সেখানে যাতায়াত করছে এ রাজ্যের এক যুবক। সে এখন ভাট্টি নেটওয়ার্কের এ রাজ্যের মাথা। হামিম, অর্পিতা এবং আদিত্যকে ‘চালনা’ করেছে সে। বাংলার এই যুবকই এখন গোয়েন্দাদের ‘টার্গেট’। পাশাপাশি হাওড়া থেকে ধৃত আদিত্য সিংকে গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে কলেজ পড়ুয়াদের এই ভাট্টি গ্যাংয়ে শামিল করানোর দায়িত্ব দিয়েছিল তার ‘বস’রা। এই কাজও সে শুরু করেছিল। তার মোবাইল ঘেঁটে এই তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। আদিত্যর অ্যাকাউন্টে বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক লেনদেনে মোট ৩০ লক্ষ টাকা ক্রেডিট হয়েছে। যার মধ্যে দুবাই থেকে আসা অর্থও রয়েছে। এই পর্বেই ভাট্টি গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রাঁচি থেকে একজনকে আটক করে জেরা চলছে বলে খবর।
ভাট্টি গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে অফিসাররা জানতে পারছেন, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে এসে ডেরা বেঁধেছে এই জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যরা। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের কর্তারা তাদের সাহায্য করছে বিভিন্নভাবে। মূলত পূর্ব ও উত্তর পূর্ব ভারতে থাকা ভাট্টি গ্যাংয়ের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য বাংলাদেশকে বেছে নেওয়া হয়েছে। যাতে সহজেই পৌঁছে যেতে পারে তারা। হামিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, রাজ্যে তাদের মাথার স্থানীয় একজন ‘বস’ রয়েছে। যাচাইয়ের কয়েকটি ধাপ পেরোনোর পর সকলকে ওই বসের গ্রুপে যুক্ত করা হয়। মাথার কাছেই সমস্ত নির্দেশ পৌঁছয় পাকিস্তান থেকে। সেইমতো সকলকে বিভিন্ন ‘টাস্ক’ দেওয়া হয়। গোয়েন্দারা বলছেন, রাজ্যে ভাট্টি গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রক ওই যুবক প্রায়ই বাংলাদেশে যাচ্ছে। সেখানে গিয়ে এই জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে আসছে। তার নাম তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, রাজ্যে থাকা ভাট্টি গ্যাংয়ের বেশ কয়েকজন তরুণকে সে বাংলাদেশে নিয়ে গিয়েছে। সেখানে তাদের সঙ্গে আইএসআই কর্তাসহ পাকিস্তানের ভাট্টি গ্যাংয়ের বড় বড় মাথারা কথা বলেছে। কীভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে সংগঠন ছড়াতে হবে এই নির্দেশই তাদের দেওয়া হয়েছে। এরজন্য গেমিং অ্যাপের উপর জোর দেওয়া হয়। যারা বাংলাদেশে বৈঠক করতে যেত তারা সকলেই বৈধ পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে ব্যবসায়িক কারণ দেখিয়ে সীমান্ত পার করত। সেখানে শুধু বৈঠকই নয়, বিভিন্ন ধরনের ট্যাকটিকাল প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে মন্ত্রী, ভিভিআইপি, সিনিয়র আমলা ও নিরাপত্তার কাজে জড়িত কর্তাদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হবে। তাদের লাইন অব রুটে সিসি ক্যামেরা এড়িয়ে কীভাবে ঢুকে পড়তে হবে, তারও প্রশিক্ষণ হয়েছে। পাশাপাশি টার্গেটে থাকা ব্যক্তিদের অপহরণ বা খতমের নকশা চূড়ান্ত করার পর কীভাবে বাস্তবায়িত করা হবে, সেটিও শেখানো হচ্ছে বলে খবর। কারা এই ট্রেনিং নিয়ে এসেছে, তা ধৃতদের জেরা করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।