নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বিরাটি স্টেশন লাগোয়া বড় পুকুর। বাম ও তৃণমূল জমানায় চেষ্টা করেও সাধারণ মানুষের বিরোধিতায় সেটি ভরাট করতে পারেননি প্রভাবশালীরা। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যে অভিনব কায়দায় সেই পুকুর ভরাটের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মধ্যরাতে হাতে টানা রিকশয় বালি এনে ফেলা হচ্ছে। সকালে মানুষ দেখছেন, ক্রমাগত ভর্তি হয়ে যাচ্ছে পুকুর। অভিযোগ, এই পুকুর ভরাট চক্রে অসাধু প্রমোটারদের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের কেষ্টবিষ্টুরা যুক্ত। প্রশাসনের তরফে অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির উত্তর দমদম বিধানসভা এলাকার ৩ নম্বর মণ্ডল সভাপতি সুমন বিশ্বাস দুপুরে সমস্ত অভিযোগ শুনে খোঁজ নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু বিকালেই ফোন করা হলে বলেন, এমন অভিযোগ তাঁর জানা নেই।
উত্তর দমদম পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডটি বিরাটি স্টেশন লাগোয়া। স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের শেষে বিশরপাড়াগামী রেল লাইনের ধারে রিকশ স্ট্যান্ড রয়েছে। তার পাশেই স্বামীজিপল্লি এলাকায় প্রায় সাড়ে ছয় কাঠার পুকুর রয়েছে। ওই এলাকায় জমির দাম এখন আকাশ ছোঁয়া। অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে রাত আড়াইটা থেকে ভোর সাড়ে চারটে পর্যন্ত পুকুর ভরাটের অপারেশন চলছে। বালি নিয়ে আসা হচ্ছে রিকশয়, যাতে কোনও আওয়াজ না হয়। রাতে ইতিমধ্যে কয়েকশো বস্তা বালি ফেলে বেশ কিছুটা পুকুর ভরাটও করে দেওয়া হয়েছে।
পুরসভার প্রশাসকের কাছে পুকুর ভরাটের ছবি সহ অভিযোগ জানিয়েছেন সমাজকর্মী বিপ্লবকুমার চৌধুরী। বিপ্লববাবু বলেন, নতুন সরকার পুকুর ভরাট, বেআইনি নির্মাণ, সিন্ডিকেট ও গুন্ডারাজ বন্ধ করার আশ্বাস দিয়েছিল। এখন দেখা যাচ্ছে, বিরাটিতে চোখের সামনে পুকুর ভরাট হচ্ছে। নানান বেআইনি কাজ হচ্ছে। সরকারি দলের লোকেরাই ওই চক্রান্তে যুক্ত। অবিলম্বে পুলিশ ও প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। - নিজস্ব চিত্র