সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: গভীর রাতে পাহাড় ভ্রমণে গিয়ে খাদে পড়ল ছোট গাড়ি। এতে দু’জনের মৃত্যু এবং তিন জন জখম হয়েছেন। শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে কার্শিয়াংয়ের তিনঘুমটি পাঙ্খাবাড়ি রাস্তায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা হল সুমিত সিংহ (১৮) ও রাজেশ পাসওয়ান (২১)। প্রথম জন নকশালবাড়ির ফুটানিমোড়ের বাসিন্দা। অপরজন কোটিয়াজোতের বাসিন্দা। জখম হয়েছেন করণ ঠাকুর, রাজ দাস এবং তারক বিশ্বাস। সকলেরই বয়স ১৮ থেকে ২১ এর মধ্যে। সকলেরই বাড়ি নকশালবাড়িতে। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত ১টা নাগাদ পাঁচ জনের একটি দল একটি ছোট গাড়িতে নকশালবাড়ি থেকে কার্শিয়াংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়। এরপর কার্শিয়াং থেকে ফেরার পথে সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ পাঙ্খাবাড়ি রোডে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কার্শিয়াং থানার পুলিশ জখমদের উদ্ধার করে সুকনা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তিন জনকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁরা চিকিৎসাধীন। পুলিশ মৃতদেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।
এদিকে বাড়ির ছেলেরা যে রাতে ঘুরতে বেরিয়েছে, তা জানেনই না পরিবারের লোকজনরা। মৃত রাজেশের মা মঞ্জু পাসওয়ান বলেন, ছেলে কোনও কাজ করত না। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াত। রাতে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলেছিল। তবে তাকে বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করেছিলাম। পরে কখন সে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে তা আমরা জানি না। একই কথা বলেন মৃত সুমিতের বাবা মতিলাল সিংহ। তিনি বলেন, ছেলে অনলাইন ডেলিভারির কাজ করত। তবে রাতে কখন বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছে, তা জানা নেই। এদিকে জখম তারকের মা সুচিত্রা বিশ্বাস বলেন, ছেলে বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলার কাজ করে। রাতে সে বাড়িতে জানায় শিলিগুড়িতে বিয়ে বাড়ির কাজ আছে। এই বলে সে বের হয়। সকালে ফোন মারফত শুনতে পারলাম ছেলে পাহাড়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে জখম হয়েছে। একই সুরে কথা বলেন জখম করণের বাবা কাঞ্চন ঠাকুরও।
এদিকে পুরো ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কার্শিয়াং থানা। দার্জিলিংয়ের পুলিশ সুপার প্রবীন প্রকাশ বলেন, দার্জিলিং থেকে নকশালবাড়ি ফেরার পথে ওই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ছোট গাড়ি খাদে পড়ে যায়। এই ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও তিন জন জখম হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি।