নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর পাশ দুর্নীতি কাণ্ডে অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের অ্যাকাউন্টে কাঁড়ি কাঁড়ি নগদ জমা পড়েছে! সেই টাকা আবার পরে তোলাও হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ নগদ কেন বছরের পর জমা পড়ল ইন্দ্রনীলের অ্যাকাউন্টে, সেটাই খুঁজে দেখছেন সিটের অফিসাররা। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন তদন্তকারীদের জেরায় জানিয়েছেন, আর্থিক বিষয়টি সংস্থার পদাধিকারি ধ্রুবজ্যোতি বসু দেখতেন। এভাবেই বিষয়টি পাশ কাটানোর চেষ্টা করছেন তিনি। দুর্গাপুজোর পাশ বিক্রি কাণ্ডের তদন্তে নেমে ইন্দ্রনীল সেনের অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা ঢোকার নথি পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এমনকি, তাঁর মেয়ের কোম্পানির অ্যাকাউন্ট থেকেও টাকা ঢুকেছে প্রাক্তন বিধায়কের অ্যাকাউন্টে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নথি ঘেঁটে অফিসাররা জেনেছেন, শুধু অ্যাকাউন্ট থেকে অ্যাকাউন্টেই টাকা লেনদেন হয়নি, প্রায় প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ নগদ জমা পড়েছে তাঁর বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে। তদন্তকারীরা বুঝতে পারছেন, এটা শুধু ইউনেস্কোর নাম ভাঁড়িয়ে মাস আর্ট পুজোর প্রিভিউ পাশ বিক্রি করে আসা নগদ নয়। তদন্তে উঠে এসেছে, তথ্য ও সংস্কৃতির দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন দপ্তরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বরাত পাইয়ে দেন নিজের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তিকে। এর বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ কাটমানি পেতেন তিনি। সেই টাকাই বিভিন্ন সময়ে নগদে জমা পড়েছে তাঁর অ্যাকাউন্টে। অবৈধ অর্থের সোর্স লুকোতেই নগদে টাকা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কে বা কারা এই টাকা জমা করলেন, তা ব্যাংকের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ এসব লেনদেন বহুদিন আগের। তাই টেন্ডার পাওয়া তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ডেকে বিষয়টি জানতে চাওয়া হবে। আগামী সপ্তাহ থেকেই তাঁদের ডাক পড়ার কথা। তবে টাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইন্দ্রনীল বারবার দাবি করেছেন, সবটাই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এসেছে। তাই এখানে দুর্নীতির কোনো জায়গা নেই। স্বচ্ছ রোজগারের বাইরে বাড়তি কোনো অর্থ তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। নগদের বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলেও দাবি প্রাক্তন দাপুটে মন্ত্রীর। টাকার এই প্রসঙ্গ জানতেই মাস আর্টের কর্ণধার—তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে শনিবার দীর্ঘক্ষণ জেরা করে সিট। তদন্তকারীদের কাছে তিনি দাবি করেছেন, প্রিভিউ পাশের নামে টাকা তোলার বিষয়টি সম্পূর্ণ এই কোম্পানির কর্তা ধ্রুবজ্যোতি বসুর মস্তিষ্কপ্রসূত। টাকার বিষয়টি তিনি দেখভাল করতেন না। টিকিট বিক্রি বাবদ কত টাকা এসেছে সবকিছুই ধ্রুবজ্যোতি জানেন। তদন্তকারীদের যুক্তি, আসলে কোম্পানির ওই অফিসারদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েই নিজেকে আড়াল করতে চাইছেন মধুছন্দা সেন। তাই ধ্রুবজ্যোতিকে পাওয়া গেলে এই সংক্রান্ত রহস্যের সমাধান হবে বলে মনে করছে সিট।



