নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী রবিবার কালীপুজো। রাজ্যে আলোর উৎসবে আতশবাজি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গতবার ফানুস ওড়ানো নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল প্রশাসন। এবার সেই নিষেধাজ্ঞা অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে। নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, বিশেষ লাইসেন্স থাকলে তবেই ওড়ানো যাবে ফানুস। ক্রেতাদের জন্যই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কিন্তু বিক্রিতে কোনো বিধি লাগু করা হয়নি। তাহলে কীভাবে মিলবে এই লাইসেন্স? কোথা থেকে পাওয়া যাবে লাইসেন্স? কে দেবে লাইসেন্স? অফলাইন না অনলাইন? এখনও সবটা ধোঁয়াশা! ফলে ধন্দে পড়েছে আম জনতা।
এই সপ্তাহেই শহরের চার জায়গায় বসবে বাজিবাজার। সেখানে ফানুস বিক্রির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, পাড়ায় পাড়ায় ছোটো ব্যবসায়ীরা আতশবাজি, ফানুসের পসরা সাজিয়ে বসতে শুরু করে দিয়েছেন। সেখানে ৩০-৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে এক-একটি ফানুস। ব্যবসায়ীদের বিক্রিতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু ফ্যাসাদে পড়েছেন ক্রেতারা। সাবধানী ক্রেতারা বিক্রেতাকেই জিজ্ঞাসা করছেন, কীভাবে লাইসেন্স পাওয়া যাবে? তাঁরাও যে এনিয়ে অন্ধকারে, কবুল করছেন বিক্রেতারা। অনেকে আবার আগ বাড়িয়ে পরামর্শ দিতে গিয়ে রীতিমতো ভুল বোঝাচ্ছেন মানুষকে। তাঁরা বলছেন, ‘আপনার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিই তো লাইসেন্স দিয়ে দেবেন। তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। কটা ফানুস কিনেছেন, সেটা দেখাবেন। সেই মতো ফানুসের সংখ্যা লিখে একটি স্লিপ দেওয়া হবে।’ সেই কথায় ভরসা করে ব্যাগ ভরে ফানুস কিনছেনও অনেকে।
ক্রেতাদের একাংশের আবার এমনও মনোভাব—প্রশাসন বলার কথা বলেছে! ওসব লাইসেন্স যাচাইয়ের কোনো পরিকাঠামোই নেই। তাই লাইসেন্স ছাড়াই ফানুস ওড়ানো যাবে। বেহালার অশেষ দাস বলেন, ‘বিক্রিতে যদি লাইসেন্স না থাকে, তাহলে ক্রেতাদের জন্য এই লাইসেন্সের ব্যবস্থা কেন? আর তা যাচাই করার কোনো নিয়ম কেন প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করা হচ্ছে না?’ কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, ফানুস ওড়ানোর লাইসেন্স কীভাবে দেওয়া হবে? কে তা দেবে? পুলিশ কোনোভাবে সেই লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্ত থাকবে কি না, তা জানা নেই তাদেরও। লালবাজারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি। যদিও ইতিমধ্যে শহরের বাইরে নুঙ্গি ও চম্পাহাটির হাড়ালে দেদার বাজি বিক্রি শুরু হয়ে গিয়েছে। সেখান থেকে অনেকেই ফানুস কিনেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এনিয়ে অনেকেই পোস্ট করছেন। উল্লেখ্য, এই ফানুসের জন্য একাধিকবার শহরে বড়োসড়ো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এরপর নিরাপত্তার স্বার্থে ফানুস বিক্রি বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। কিন্তু পালাবদলের পর সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে। তবে পরিকাঠামোগত অভাব দুর্ঘটনার কারণ হবে না তো? সেই প্রশ্নেও চর্চা চলছে।



