ভুবনেশ্বর, ৩১ অক্টোবর: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের জেরে বিপর্যস্ত গোটা ওড়িশা। এখনও সেই রেশ কাটিয়ে উঠতে পারেনি ওড়িশাবাসী। এরমধ্যেই ভারী বৃষ্টির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়াগায় ভূমিধস নামছে। আর তার ফলেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। গতকাল গঞ্জাম এবং কান্ধমল জেলা সংলগ্ন পাহাড়ি গ্রামে ধস নামে। তাতে নিখোঁজ হয়ে যান ১২ জন। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারীরা দল। এর পাশাপাশি ধসের জেরে একাধিক বাড়িও মাটির তলায় চাপা পড়ে গিয়েছে।
স্পেশাল রিলিফ কমিশনার রাজেশ পি পাটিল জানান, ‘ওই পাহাড়ি গ্রামে মোট ২৬ জন বাসিন্দা ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন কোনোরকমে প্রাণে বেঁচে ফিরতে পেরেছেন। কিন্তু বাকি ১৩ জনের মধ্যে একজনের সন্ধান মিললেও ১২ জনের এখনও পর্যন্ত কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। গতকাল রাত থেকেই উদ্ধারকাজ চলছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, ওড়িশা ডিজাস্টার র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স এবং স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের মোট ১৭০ জন কর্মী তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।’ ওই দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ১৩ জন কান্ধমল জেলার জি উদয়গিরির কাছে একটি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আহত হওয়া দুজন মহিলাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি জানিয়েছেন, ‘বন্যা ও ধস কবলিত এলাকাগুলিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চলছে। বিপর্যস্ত মানুষদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ত্রাণ শিবিরগুলিতে পানীয় জল, খাবার এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখা হয়েছে।’
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের জেরে ওড়িশার প্রায় ১০ জায়গায় ভূমিধস হয়েছে। গতকাল কান্ধমল জেলার অন্য একটি ভূমিধসে মারা গিয়েছে নয় মাসের এক শিশু-সহ তিনজন। এছাড়াও দক্ষিণ ওড়িশার শতাধিক গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই বিপর্যয়ের জেরে চিন্তিত ওড়িশাবাসী।



