Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়া বেলগাছিয়ায় ভূমিধস, মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে এল জলের পাইপ

ভোররাতে আচমকা ভূমিধস। ফাটল ধরল রাস্তায়। মাটির নীচে চলে গেল বড় একটি অংশ। রীতিমত মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে এল জলের মূল পাইপ।

হাওড়া বেলগাছিয়ায় ভূমিধস, মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে এল জলের পাইপ
  • ২১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভোররাতে আচমকা ভূমিধস। ফাটল ধরল রাস্তায়। মাটির নীচে চলে গেল বড় একটি অংশ। রীতিমত মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে এল জলের মূল পাইপ। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার হাওড়া বেলগাছিয়ার ভাগাড়ে ঘটেছে এই মারাত্মক ঘটনা। এরপরই তীব্র জলকষ্ট শুরু হয়। শহরের প্রায় অর্ধেক বাসিন্দা চরম সমস্যায় পড়েন। উত্তর হাওড়া ও শিবপুর মিলিয়ে শহরের ২০টি ওয়ার্ড কার্যত জলশূন্য অবস্থার মধ্যে চলে যায়। হাওড়া ও কলকাতা পুরসভা একযোগে পানীয় জলের ট্যাঙ্ক পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। হাওড়া পুরসভা ও কেএমডিএ পাইপলাইন মেরামত শুরু করেছে। কমকরে ২৪ ঘণ্টা লাগবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বলে জানিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। রাস্তা বন্ধ থাকায় আবর্জনার গাড়িও ঘুরিয়ে দিতে হয়। সবমিলিয়ে পাইপ ফেটে চরম বিপত্তি হাওড়া শহরে।
হাওড়ায় এফ রোড থেকে ঝিল রোড হয়ে সালকিয়া পর্যন্ত গিয়েছে জল সরবরাহকারী মূল পাইপলাইনটি। সেটি ১২০০ ডায়ামিটার ব্যাসের। এই পাইপলাইন দিয়ে উত্তর হাওড়ার ১৬টি ও শিবপুরের চারটি ওয়ার্ডে জল পৌঁছয়। এই লাইনের একটি বড় অংশ গিয়েছে গ্রাউন্ডের ভিতর দিয়ে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে ভূগর্ভস্থ জলের পাইপলাইনের উপরে রাস্তার একটি অংশে ফাটল দেখা দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে দেখা গিয়েছে, অনেকটা অংশজুড়ে রাস্তা প্রায় দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে। মাটির নিচে ধস নেমে তৈরি হয়েছে বিরাট গহ্বর। প্রবল চাপে জলের পাইপলাইন ফেটে বাইরে বেরিয়ে এসেছে। এই অবস্থায় সকালবেলাতেই পুরসভা এই অংশে জল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। তৎক্ষণাৎ শুরু হয় জলসঙ্কট। পুরসভা ২৮টি জলের ট্যাংক ওয়ার্ডগুলিতে পাঠায়। ঘটনাস্থলে যায় কেএমডিএ এবং পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা। যান পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী। মুখ্য প্রশাসক বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হবে।’ 
অন্যদিকে গরমে রীতিমত নির্জলা দশা তৈরি হওয়ায় প্রবল সমস্যায় পড়ে উত্তর হাওড়ার বাসিন্দারা। ট্যাঙ্ক থেকে জল নিতে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। মুহূর্তে ফাঁকা ট্যাঙ্কের জল। ভুক্তভোগী বাসিন্দারা বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই পাইপলাইনে সমস্যার জন্য জল বন্ধ থাকে। এই গরমে মাত্র কয়েকটি ট্যাঙ্ক পাঠিয়ে কি হবে?’ বেলগাছিয়ায় যেখানে ভূমিধস হয় তার পাশে আছে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার ইলেকট্রিক পোস্ট। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে বলে পুরসভা। আবর্জনা নিতে এসে এগতে না পেরে জঞ্জালের গাড়ি এফ রোডে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। পরে সেগুলিকে ঝিল রোড দিয়ে ঘুরিয়ে ভাগাড় পর্যন্ত নিয়ে যেতে
হয়। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ