নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: খানাকুলে ধস নেমে ভেঙে গিয়েছে নদী বাঁধ ও রাস্তা। তার জেরে সমস্যায় পড়েছেন বাসিন্দারা। একইসঙ্গে বোরো চাষের জল ছাড়ার আগে বাঁধ মেরামতি নিয়েও চিন্তা বেড়েছে। দুর্গাপুজোর সময় বাঁধের একাংশ ভেঙে যায়। যাতায়াত নিয়েও চরম বিপাকে এলাকাবাসী। ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাঁদের। খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা যান। পরে প্রশাসনের তরফে রাস্তায় টিন দিয়ে যাতায়াত বন্ধও করে দেওয়া হয়। কিন্তু কবে থেকে বাঁধ ও রাস্তা মেরামতি শুরু হবে তা নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খানাকুলের পলাশপাই ১ পঞ্চায়েতের মুচিঘাটা সংলগ্ন এলাকায় হুড়হুড়ে খালের পাশে রয়েছে ওই বাঁধ। বর্ষায় জল এসে তা বিশাল চেহারা নেয়। বিগত দিনে এলাকায় বাঁধ ভেঙেছে। কিন্তু সম্প্রতি দুর্গাপুজোর সময় আচমকা ধস নামতে থাকে বাঁধের অংশে। তাতেই আতঙ্ক ছড়ায়। বাঁধের বিস্তীর্ণ অংশ বসে যায়। বাঁধ ও রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন বাসিন্দারা। ব্যবসায়িক কাজকর্মেও অনেকের সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি।
খানাকুলের বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ বলেন, তৃণমূল সরকারের আমলে নদী বাঁধের দিকে নজর দেয়নি সেচদপ্তর। বিভিন্ন প্রকল্পে নানা অনিয়মও হয়েছে। তার ফলে বাঁধের মেরামতিতে প্রভাব পড়েছে। পলাশপাই এলাকার নদী বাঁধ ভেঙে পড়ার বিষয়টি সেচমন্ত্রীকে জানিয়েছি। জরুরি ভিত্তিতে যাতে সেখানে মেরামতির কাজ করা তা নিশ্চিত করতে তদবিরও করছি। বোরো চাষের জল আসার আগেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
খানাকুল ২ ব্লকের বিডিও ভরতচন্দ্র দাস বলেন, পলাশপাইয়ে বাঁধের বেশ কিছু অংশ ভেঙেছে। যাতে কোনো রকম বিপদ না হয় সেইজন্য যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা এসে ঘটনাস্থল দেখে গিয়েছেন। দপ্তরের তরফে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে মেরামতির কাজ শুরু হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রিয়ঙ্কর মণ্ডল বলেন, দুর্গাপুজোর অষ্টমীতে সকালে হাঁটার সময় বাঁধের সামান্য অংশ ভেঙে যেতে দেখি। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ধস বাড়তে থাকে। প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট পর্যন্ত বাঁধ ভেঙে যায়। বাঁধের সামনে আমাদের অনেকের বাড়ি রয়েছে। তার ফলে আতঙ্ক আছেই। তারসঙ্গে বোরো চাষের সময় জল ছাড়লে এলাকায় প্লাবন পরিস্থিতি হতে পারে। মুচিঘাটার মল্লিক পাড়ার বাসিন্দা অরূপ মল্লিক জানান, আচমকা প্রায় ২০০ ফুট বাঁধের অংশ ভেঙে যাওয়ার ফলে যাতায়াত নিয়ে আমরা সমস্যায় পড়েছি। তারসঙ্গে বোরো চাষের জল আসার আগে বাঁধের কাজ না হলে বিপদ আরো বাড়তে পারে। প্রশাসনের তরফে একাধিকবার পরিদর্শন হয়েছে। কিন্তু কখন মেরামতির হবে তা আমরা নিশ্চিত নই।
খানাকুলে ভেঙে পড়েছে নদীর বাঁধ ও রাস্তা।



