নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের ভূমিহীন কৃষি শ্রমিকদের প্রতি বছরে চার হাজার টাকা সহায়তা দেবে রাজ্য। বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী বাজেট বা ভোট অন অ্যাকাউন্টে এই ঘোষণা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের ভূমিহীন কৃষি শ্রমিকদের প্রতি বছরে চার হাজার টাকা সহায়তা দেবে রাজ্য। বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী বাজেট বা ভোট অন অ্যাকাউন্টে এই ঘোষণা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
বর্তমানে জমি আছে এমন কৃষক এবং ভাগচাষি হিসেবে যাঁদের নাম নথিভুক্ত, রাজ্যে তাঁদের জন্য কৃষক বন্ধু প্রকল্প চালু রয়েছে। তার মাধ্যমে এক একরের কম জমি থাকলে বছরে চার হাজার টাকা আবং তার বেশি জমি থাকলে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। তবে এমন বহু কৃষক আছেন যাঁরা অন্যের জমিতে কাজ করেন। ওইসঙ্গে তাঁদের নাম ভাগচাষি হিসেবেও কোথাও নথিভুক্ত নেই। ফলে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধা তাঁরা পান না। এমন সমস্ত প্রান্তিক কৃষকদের কথা ভেবেই এদিনের বাজেটে এই প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ২,০০০ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাবও পেশ করল রাজ্য।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্যের প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এটি একটি বিরাট পদক্ষেপ। এতে কৃষিজীবী মানুষ অধিক উপকৃত হবেন। দুই কিস্তিতে (রবি এবং খরিফ মরশুমে) ২ হাজার টাকার সহায়তা মিলবে। এই প্রকল্পের বেনিফিসিয়ারিদের জন্য তৈরি করা হবে একটি পৃথক ডেটাবেস। যাঁরা কোনো কৃষিজমির মালিক নন এবং কৃষক বন্ধু (নতুন) প্রকল্পের সুবিধা পান না ও ভাগচাষি হিসেবেও নথিভুক্ত নন, সর্বোপরি কেবল অন্যের জমিতে মজুরির বিনিময়ে শ্রমদান করেন, তাঁদেরকেই রাখা হবে এই তালিকায়।
এছাড়া ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের চাষের খরচ কমাতে সরকারি নলকূপ ও রিভার লিফট ইরিগেশন প্রকল্পে সেচের ফি বা চার্জ সম্পূর্ণ মকুব করারও প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য। ক্ষুদ্র চা বাগান মালিকদের স্বার্থে কাঁচা চা পাতা উৎপাদনের উপর কৃষি আয়কর ছাড়ের সময়সীমা আগামী অর্থবর্ষের জন্য ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হল। সেইসঙ্গে চা উৎপাদনের উপর লাগু সেসে ছাড়ও আরও এক বছর বাড়ানো হল। -ফাইল চিত্র