Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৪৫ দিনে সীমান্তে জমি হস্তান্তর, সরকারি আশ্বাসে স্বস্তি বসিরহাটে

স্বরূপনগর সীমান্তের অন্যতম সংবেদনশীল অংশ হিসাবে পরিচিত।

৪৫ দিনে সীমান্তে জমি হস্তান্তর, সরকারি আশ্বাসে স্বস্তি বসিরহাটে
  • ১৩ মে, ২০২৬ ০৯:১৬
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: পরিবর্তনের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার মধ্যে অন্যতম হল, ৪৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সীমান্তের উন্মুক্ত জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তর শুরু হবে। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর সীমান্ত এলাকায় স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে।

Advertisement

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সীমান্ত এলাকায় প্রায় ১৪.৫ কিমি অংশ এখনও কাঁটাতারবিহীন অবস্থায় রয়েছে, ফলে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। স্বরূপনগর সীমান্তের অন্যতম সংবেদনশীল অংশ হিসাবে পরিচিত। হাকিমপুর, বিথারি, নিত্যানন্দকাটি সহ একাধিক গ্রাম সরাসরি সীমান্তঘেঁষা। অভিযোগ, কাঁটাতার না থাকায় এই অংশ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ চলছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সোনা, মাদক, ফেনসিডিল, ইলেকট্রনিক সামগ্রী পাচার। একাধিকবার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। নতুন সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আশার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, কাঁটাতার না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তের পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছিল। অধ্যাপক সুজয় নন্দী বলেন, সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান শুধু নিরাপত্তার সমস্যা নয়, সামাজিক সমস্যাও তৈরি করছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
স্থানীয় গ্রামবাসী রঞ্জন মণ্ডল ও বুদ্ধদেব রায় বলেন, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্ত সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি। এই পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই। এতে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। সীমান্তে কাঁটাতার ও নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার হলে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান কমবে। পাশাপাশি এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হবে।
এদিকে, প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রায় ৫০ কিলোমিটারের বেশি সীমান্ত এলাকায় এখনও কাঁটাতারের বেড়া বসানো হয়নি। ফলে ওই অংশগুলি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত সুরক্ষা আরও জোরদার করতে বিএসএফ জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের একাংশ জানিয়েছে, বসিরহাটের পানিতর এলাকা ও ওপারে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা সংলগ্ন অঞ্চলে বহু ভারতীয় চাষির জমি রয়েছে। বহু বছর ধরে তাঁরা ওই জমিতে চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে যেসব অংশে এখনও কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেখানে দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করে সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি তুলেছেন তাঁরা। 
চাষিদের বক্তব্য, সীমান্ত নিরাপত্তা শক্তিশালী হলে অনুপ্রবেশ ও পাচারের ঝুঁকি কমবে এবং তাঁরা নিশ্চিন্তে চাষাবাদ করতে পারবেন। ঘোষণা অনুযায়ী, ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তর হলে কাঁটাতার বসানোর কাজ শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্ত কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিনের সমস্যা কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে— সেদিকেই এখন নজর প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ