নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও হাওড়া: হাওড়ার বেলগাছিয়ায় ভূমিধস পরিস্থিতি সামলাতে ‘প্ল্যান অব অ্যাকশন’ তৈরি করল রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ভূমিধসে বিপর্যস্তদের পুনর্বাসন ও উন্নত নিকাশি নিয়ে সামগ্রিক পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার।
সোমবার ভূমিধস পরিস্থিতি দেখতে গিয়েছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। মঙ্গলবার বিধাননগরে নগরোন্নয়ন ভবনে সুডা, কেএমডিএ, হাওড়া পুরসভা ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে তিনি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী, জেলাশাসক দিপাপ্রিয়া পি, পুলিস কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠি, কমিশনার বন্দনা পোখরিওয়াল, কনজারভেন্সি দপ্তরের আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়াররা। কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররাও উপস্থিত ছিলেন। জানা গিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে হাওড়ার মানুষকে রেহাই দিতে তৈরি হয়েছে ব্লু-প্রিন্ট। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বেলগাছিয়া ভাগাড় সংলগ্ন এফ রোডের বিপর্যস্তদের আপাতত রাখা হবে স্থানীয় কয়েকটি স্কুলে। এছাড়া অস্থায়ীভাবে থাকার জন্য কয়েকটি কন্টেনার কেনা হবে। কন্টেনারের অন্দরে থাকার ঘর, আধুনিক মানের বাথরুম ও অন্যান্য কিছু সুযোগ সুবিধে থাকবে। একইসঙ্গে বাসস্থান সুনিশ্চিত করতে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের (যাঁদের স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণপত্র আছে) জন্য ৯৬টি ফ্ল্যাটবিশিষ্ট ছ’টি আবাসন তৈরি হবে। এ কাজে আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় জমি চিহ্নিত করার কাজও শুরু হয়েছে। এদিনই এলাকায় গিয়ে বৈঠক করেন হাওড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) আজার জিয়া ও হাওড়া সিটি পুলিসের এসিপি নর্থ বিশপ সরকার। সেখানে সরাসরি ৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকিগুলি নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
এর পাশাপাশি নতুন করে বেলগাছিয়ায় আর আবর্জনা ফেলা হবে না বলেও এদিনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। বিকল্প হিসেবে আগামী ৪৫ দিন শিবপুরের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের আরুপাড়া এলাকায় একটি জমিতে শহরের উদ্বৃত্ত জঞ্জাল ফেলা হবে। যেখান থেকে কলকাতার ধাপা ও হুগলির বৈদ্যবাটিতে জৈব কম্পোস্ট সার তৈরির প্লান্টে তা নিয়ে যাওয়া হবে। বেলগাছিয়া ভাগাড়ে ১০ কোটি টাকা খরচ করে আরও তিনটি অত্যাধুনিক বায়ো মাইনিং ও প্রসেসিং ইউনিট তৈরির জন্য কেএমডিএ দ্রুত দরপত্র ডাকবে। পাশাপাশি আরও দু’টি ওয়েস্ট সেগ্রিগেশন মেশিনও বসবে। বেলগাছিয়ায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন মাটিতে পরিণত বর্জ্য জমে রয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে তা সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করছে ৮০টি ডাম্পার। এদিনের বৈঠকে হাওড়া পুরসভা নগরোন্নয়ন দপ্তরের কাছে কয়েকটি কমপ্যাক্টর মেশিনের জন্য আবেদন জানিয়েছে। দ্রুত টেন্ডার করে তা কেনা হবে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে শহরজুড়ে খোলা ভ্যাটের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলবে। ভূমিধসের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও নিকাশি নালা সংস্কারের কাজও শুরু হবে দ্রুত।
এদিন হাওড়া এবং বালি এলাকায় বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব বন্টন করে জানানো হয়েছে, ছোট রাস্তা সংস্কারের দায়িত্ব থাকবে হাওড়া পুরসভার উপর। বড় রাস্তার কাজ করবে কেএমডিএ। একইভাবে নিকাশির ক্ষেত্রেও বড় কাজের দায়িত্ব কেএমডিএ’র। এছাড়া হাওড়ার ৬৬টি ওয়ার্ডে দৈনন্দিন পুর পরিষেবার উপর নজরদারির জন্য ১৩০ সুপারভাইজার মোতায়েন হবে বলে এদিন জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী। এছাড়াও হাওড়া ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্টের কয়েকজন ইঞ্জিনিয়ার যাবেন হাওড়া পুরসভায়।-নিজস্ব চিত্র