Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জমিটাই উধাও! খাজনা দিতে গিয়ে মাথায় হাত শ্যামসুন্দরের

‘আমার জমি ফেরত চাই’, হাতে এমন প্ল্যাকার্ড নিয়ে ময়নাগুড়ির ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের সামনে বৃহস্পতিবার ধর্নায় বাসেন এক যুবক।

জমিটাই উধাও! খাজনা দিতে গিয়ে মাথায় হাত শ্যামসুন্দরের
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: ‘আমার জমি ফেরত চাই’, হাতে এমন প্ল্যাকার্ড নিয়ে ময়নাগুড়ির ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের সামনে বৃহস্পতিবার ধর্নায় বাসেন এক যুবক। আর এই ঘটনায় রীতিমতো হতবাক দপ্তরে আসা কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ প্রত্যেকে। ধর্নায় বসা যুবক শ্যামসুন্দর সেনের দাবি, তাঁর নামে জমি রয়েছে। মিউটেশনের কাগজও আছে। সেই জমিতে তিনি দোকান ঘর তৈরি করেছেন। দোকান তৈরি করার আগে ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে এসে প্ল্যান করিয়েছেন। বছর খানেক আগে খাজনা দিতে গিয়ে দেখেন জমি উধাও। 

Advertisement

অনলাইনে তিনি এখন দেখতে পারছেন, তাঁর জমি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের দখলে চলে গিয়েছে। কিন্তু এজন্য তিনি কোনও নোটিস পাননি। এখন তাই দিশেহারা অবস্থা ময়নাগুড়ির খাগড়াবাড়ি-২ পঞ্চায়েতের টেকাটুলির বাসিন্দা শ্যামসুন্দরের। ভূমিদপ্তর থেকে শুরু করে অন্যান্য সরকারি দপ্তরে গিয়েও হয়নি কোনও সুরাহা। তাই জমি ফেরতের দাবিতে এদিন তিনি ধর্নায় বসেন। 
টেকাটুলিতে শ্যামসুন্দর সেনের চার ডেসিমেল জমি রয়েছে। এর মধ্যে এক ডেসিমেল জমিতে তিনি দোকানঘর করে সংসার চালাচ্ছেন। বাকি জায়গাটি ফাঁকা রয়েছে। ভবিষ্যতের তিনি ঠিক করেছেন সেখানে বাড়ি করবেন। এদিন শ্যামসুন্দর সেন বলেন, জমির খাজনা আমি দিয়ে আসছিলাম। একবছর আগে অনলাইনে দেখতে পাই আমার জমি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের দখলে। তাজ্জব হয়ে যাই, এটা হল কীভাবে। কতবার ভূমিদপ্তরে গিয়েছি, কিন্তু সুরাহা কিছু হয়নি। একটাই কথা, তারা কিছু জানে না। আমার জমি কোনও নোটিস ছাড়া আমার কাছ থেকে অন্যত্র চলে যাবে, এটা হতে পারে না। এছাড়াও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ যদি কোনও জমি দখল করে তাহলে তো ক্ষতিপূরণ দেয়। এক্ষেত্রেও আমি বঞ্চিত। কোনও দিক থেকে কোনও সুরাহা না হওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে এদিন ধর্নায় বসি। 
ময়নাগুড়ির ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক ভিক্টর সাহা বলেন, যিনি ধর্নায় বসেছেন তিনি আমার কাছেও এসেছিলেন। দাবি, তাঁর জমি নাকি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের দখলে গিয়েছে। এটা ভূমি অধিগ্রহণ দপ্তরের বিষয়। সেখান থেকে তালিকা পাওয়া গেলে আমরা বলতে পারব। কারণ সেই তালিকা আমাদের কাছে নেই। 
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের স্থানীয় এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। জমি নিয়ে কোনও অভিযোগ বা সমস্যা থাকলে ওই ব্যক্তিকে ভূমিদপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ