সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: ধনেখালিতে মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে তিতিবিরক্ত সাধারণ মানুষ। এর জেরে ঘটে চলেছে একের পর এক দুর্ঘটনা, এমনকী মৃত্যুও। কিন্তু নির্বিকার প্রশাসন। গ্রীষ্মের সময়ে মাঠ শুকিয়ে গেলে পোয়া বারো হয় এই চক্রের। তখন নিয়মের ফাঁক গলে, আবার কোথাও সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তুলে নেওয়া হয় চাষজমির মাটি। আবার কোথাও বেআইনিভাবে ভরাট করা হয় নয়ানজুলি অথবা পুকুর। কোথাও বা একটি পুকুর কাটার অনুমোদন করিয়ে অপর পুকুর থেকে তার কয়েকগুণ বেশি পরিমাণ মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এই মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয়দের পাশাপাশি বিরোধীরা। দশঘড়া-১ পঞ্চায়েতের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি প্রবীর সাঁতরা জানান, রাতারাতি বদল হয়ে যাচ্ছে জমির চরিত্র। এর ফলে একদিকে রাজস্ব আদায়ে সরকারের ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে কোথাও বেআইনিভাবে পুকুর ভরাট হচ্ছে, আবার কোথাও বেআইনিভাবেই চাষের জমিকে পুকুরে পরিণত করা হচ্ছে। এমনকী এর ফলে ট্রাক্টর থেকে রাস্তায় মাটি পড়ছে। সেই মাটিতে বিশেষ করে বাইক, সাইকেলের মতো দুই চাকার গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ছে। আমি নিজে এনিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু এত কাণ্ড ঘটে গেলেও বিষয়টি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কানে গিয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। দ্রুত এই বিষয়ে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ধনেখালির সিপিএম এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুনীল বাগ জানান, আমাদের কাছে যেসব তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, সেগুলি নিয়ে আমরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যাব। আলোচনাও করব। কিন্তু প্রশাসন সদর্থক ব্যবস্থা না নিলে পথে নামব আমরা।
আর তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায় জানান, এর আগে বেআইনিভাবে একটি পুকুর কাটার অভিযোগ পেয়ে পুলিসকে জানিয়েছিলাম। তৎক্ষণাৎ সেই পুকুর কাটার কাজ বন্ধ হয়েছে। ভাণ্ডারহাটিতে ইটভাটার ‘ধাস’ বা রাবিশ দিয়ে একটি জায়গা ভরাট করার যে অভিযোগ উঠছে, সেটি আমি জানি। ওই ইটভাটার মালিক ইট দেওয়ার নাম করে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পলাতক। ইটভাটা বন্ধ। অন্যদিকে ভাটাকে লিজে দেওয়া জমিতে কৃষকরা চাষও করতে পারছেন না। কৃষকরা ফের ওই জায়গা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিষয়গুলি প্রশাসন দেখছে। আশা করি দ্রুত সমাধান করা হবে।