Bartaman Logo
৬ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শুরু হচ্ছে বুনিয়াদপুর-কালিয়াগঞ্জ রেল প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের রেল প্রকল্প এবার বাস্তবায়িত হতে চলেছে। বুনিয়াদপুর-কালিয়াগঞ্জ রেল প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

শুরু হচ্ছে বুনিয়াদপুর-কালিয়াগঞ্জ রেল প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ
  • ৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের রেল প্রকল্প এবার বাস্তবায়িত হতে চলেছে। বুনিয়াদপুর-কালিয়াগঞ্জ রেল প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ৩০১ একর জমি চিহ্নিত করেছে জেলার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। মোট ৩১টি মৌজায় এই জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলবে। জেলার পাশাপাশি দুই থানা বংশীহারী ও কুশমণ্ডি এলাকার মধ্য দিয়ে এই রেলপথ গিয়ে পৌঁছাবে উত্তর দিনাজপুর জেলার সীমান্তবর্তী ব্লক কালিয়াগঞ্জে। ওই পথে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ৩১টি মৌজার জমি অধিগ্রহণের জন্য নোটিফিকেশন ও ডিক্লিয়ারেশনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এরপর জমিদাতাদের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ করে সরকার ক্ষতিপূরণের টাকা দেবে। 

Advertisement

দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বালা সুব্রহ্মণ্যম টি বলেন, বুনিয়াদপুর-কালিয়াগঞ্জ রেল প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি জমি অধিগ্রহণ করা হবে। 
বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, বুনিয়াদপুর-কালিয়াগঞ্জ রেল প্রকল্প দুই জেলার স্বপ্নের প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগ আরও ভালো হবে। এই ব্যাপারে আমরা অনেক চেষ্টা করছি, যাতে দ্রুত এই রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। দুই জেলা থেকে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এই কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য কথা বলেছি। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বুনিয়াদপুর থেকে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার রেলপথ তৈরি হবে। তার মধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সীমানা পর্যন্ত ২২.৩৮৫ কিলোমিটার রেলপথ তৈরি হবে। ওই পথে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ৩০১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ৩১টি মৌজার মধ্যে ১০টি মৌজার নোটিফিকেশন ও ডিক্লিয়ারেশন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এবার শুরু হয়ে যাবে জমি অধিগ্রহণ। অর্থাৎ, মালিকদের টাকা দেওয়ার কাজ শুরু হতে চলেছে। আরও ন’টি মৌজার নোটিফিকেশন হয়ে গিয়েছে। এরপর ডিক্লিয়ারেশন ও জমি অধিগ্রহণ শুরু হবে। বাকি ১২টি মৌজার নোটিফিকেশন করার জন্য সমীক্ষার কাজ শেষের দিকে রয়েছে। 
প্রসঙ্গত, প্রায় এক যুগ আগে তৎকালীন রেল মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুনিয়াদপুর-কালিয়াগঞ্জ রেল প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে ওই রেল প্রকল্পের সব উদ্যোগই কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বিজেপির সুকান্ত মজুমদার সাংসদ হওয়ার পর থেকে এই রেল প্রকল্প নিয়ে একাধিকবার কেন্দ্রের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার পর এই বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার ২০ দিনের মধ্যে বুনিয়াদপুর-কালিয়াগঞ্জ রেল প্রকল্পের নোটিফিকেশন দেওয়া হয়। তারপরই জোরকদমে জমি অধিগ্রহণের জন্য সমীক্ষা ও যাবতীয় কাজ শুরু করে দেওয়া হয়। এবার জমি অধিগ্রহণ হচ্ছে। 
বুনিয়াদপুরের বাসিন্দা অনুপ পাল বলেন, এখন রেলপথে শিলিগুড়ি যেতে হলে একলাখি থেকে ট্রেনের ইঞ্জিন ঘুরিয়ে বিহারের মধ্য দিয়ে শিলিগুড়ি যেতে হয়। এই রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সরাসরি শিলিগুড়ি হয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ