Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোচবিহারের বড়দেবীর পুজোয় মহানবমীর অন্নভোগে থাকে পাঁঠার মাংস, বোয়াল মাছ

কোচবিহারের মহারাজাদের ঐতিহ্যবাহী বড়দেবীর পুজো, প্রতিমা, রীতিনীতি, নিয়মকানুন সবদিক থেকেই অন্যান্য দুর্গাপুজোর থেকে স্বতন্ত্র।

কোচবিহারের বড়দেবীর পুজোয় মহানবমীর অন্নভোগে থাকে পাঁঠার মাংস, বোয়াল মাছ
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: কোচবিহারের মহারাজাদের ঐতিহ্যবাহী বড়দেবীর পুজো, প্রতিমা, রীতিনীতি, নিয়মকানুন সবদিক থেকেই অন্যান্য দুর্গাপুজোর থেকে স্বতন্ত্র। এই পুজোয় বড়দেবীকে ভোগ নিবেদনের নিয়মাবলীও অনেকটাই আলাদা। সপ্তমী ও অষ্টমীতে বড়দেবীর পুজোয় পরমান্ন ভোগ হয়। নবমীতে হয় অন্নভোগ। আর এই অন্নভোগের নিয়মও বেশ ব্যতিক্রমী। নবমীতে দেবীকে যে অন্নভোগ নিবেদন করা হয় তাতে রাখা হয় বলি দেওয়া পাঁঠার মাংস ও বোয়াল মাছ। যা প্রসাদ হিসেবে পেতে পুণ্যার্থীদের মধ্যে ব্যাপক চাহিদা থাকে। আগে দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের দেওয়া চাল ও বলির পাঁঠার মাংস দিয়ে দেবীকে নিবেদন করা হয়। সেই প্রসাদ অন্য খিচুড়িতে মিশিয়ে সেটিকেও প্রসাদ বানানো হয়। যা বিলি করা হয় অগণিত ভক্তকে।  

Advertisement

কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরের কর্মী জয়ন্ত চক্রবর্তী বলেন, বড়দেবীর পুজোয় শুধুমাত্র নবমীর দিনই অন্নভোগ হয়। সেদিন খিচুড়ি রান্না করা হয়। সেই খিচুড়িতে বলির পাঁঠার মাংস, বোয়াল মাছ, সবজি সব দেওয়া হয়। একবারে সম্বরা দিয়ে রান্না করা হয়। 
এই পুজোয় একসময় নরবলির প্রচলন ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে অন্যান্য বলি প্রথা এখনও রয়েছে। প্রাচীন রীতি মেনেই এখানে পুজো হয়। কোচবিহারবাসীর কাছে এই পুজোর মাহাত্ম্য একেবারেই আলাদা। মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, নবমীর দিন দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের দেওয়া চাল ও ভক্তদের দেওয়া ভোগের সামগ্রী মিলিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কেজি চালের খিচুড়ি প্রস্তুত করা হয়। সেই খিচুড়িতেই মেশানো হয় বলির পাঁঠার মাংস ও বোয়াল মাছ। যা আগে পুজোর নির্দিষ্ট সময়ে বড়দেবীকে নিবেদন করা হয়। এরপর যাঁরা এখানে ভোগ নিবেদন করেন তাঁদের ভোগের প্রসাদ বিলি করা হয়। তারপর সাধারণ ভক্তদের মধ্যে এই অন্নভোগের প্রসাদ বিলি করার প্রথা যুগ যুগ ধরে হয়ে আসছে। নবমীর দিন বড়দেবীর অন্নভোগ হলেও বাকি দিনগুলিতে কিন্তু অন্নভোগ দেওয়ার রীতি নেই। বাকি দিনগুলিতে শুধুমাত্র পরমান্ন ভোগ নিবেদন করা হয় বড়দেবীকে। 
বড়দেবীর পুজোর দিনগুলিতে কোচবিহারের দেবীবাড়িতে থাকা বড়দেবীর মন্দিরে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। কোচবিহার তথা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভক্তের সমাগম ঘটে। দুর্গাপুজোর ক’দিন বড়দেবীর পুজো উপলক্ষ্যে সংলগ্ন এলাকায় বেশকিছু দোকানপাট বসে। প্রচুর মানুষের ভিড় হয়। সারা উত্তরবঙ্গের মধ্যে এমন ব্যতিক্রমী দুর্গাপুজো আর নেই বললেই চলে। এখনও পর্যন্ত একটি পরিবারের পক্ষ থেকে বড়দেবীর পুজোয় রক্ত প্রদান করা হয়।  ফাইল চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ