সংবাদদাতা, লালবাগ: খাবার নয়, পুনর্বাসন চাই। পদ্মার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত লালগোলার তারানগর ও কালীনগর প্রাথমিক স্কুলে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলি এই দাবিতে সরব হয়েছে। এদিকে রবিবার রাতে ফের ভাঙনে তলিয়ে গেল ফসলি জমি সহ লিচু বাগান। লালগোলার বিধায়ক মহম্মদ আলি বলেন, ভাঙন রোধে রাজ্য সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তারানগরের জন্য বরাদ্দ অনুযায়ী কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু বর্ষার ও বন্যার কারণে ওই কাজ করা যায়নি। ভাঙন কবলিত এলাকায় প্রতিনিয়ত আমি যাচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্তদের কীভাবে পুনর্বাসন দেওয়া যায় সে বিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতি ও ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এবছর ১৫ আগস্ট থেকে তারানগরে ভাঙন শুরু হয়। গ্রামবাসীদের দাবি, এলাকার ১৪-১৫টি বাড়ি তলিয়ে গিয়েছে পদ্মায়। ভাঙনের মুখে ঝুলছে আরও কয়েকটি বাড়ি। এদিকে নদী ভাঙনের ৩০ থেকে ৫০ ফুট দূরত্বে রয়েছে পঞ্চাশটির বেশি বাড়ি। ওই সব বাড়ির প্রায় ৯০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে কালীনগর ও তারানগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তাঁবুর নীচে ঠাঁই হয়েছে আরও ১২টি পরিবারের। পদ্মার ভাঙনে বাড়িঘর হারিয়ে শিবিরে থাকা ফারিকুল ইসলাম দাবি করেন, সব হারালেও গায়ের জোর এখনও আছে। খেটে খাবার জোগাড় করার ক্ষমতা রাখি। তাই আমরা খাবার চাই না, আমাদের পুনর্বাসন দেওয়া হোক। প্রথমিক বিদ্যালয়ের ছোট ছোট ঘরে এক সঙ্গে অনেকগুলি পরিবার একসঙ্গে থাকতে গিয়ে মহিলারা সম্ভ্রম হারাচ্ছেন, লজ্জা নিবারণ করতে পারছেন না বলে দাবি সালমা বিবি, মানোয়ারা বিবির। তাঁরা বলেন, আমাদের বাড়িঘর, শৌচালয় সবই ছিল। সেই আমরাই এখন লজ্জা ঢাকবার জায়গা পাচ্ছি না। সব হারিয়েও আমরা সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চাই। স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রশ্ন তুলেছেন, ব্লক প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদাসীনতা নিয়ে। তাঁদের দাবি, ছোট স্কুল বাড়িতে শিবির না করে ফ্লাড শেল্টার কিংবা এলাকার কাজে না লাগা কৃষক বাজারের মতো বড় ও ফাঁকা পরিবেশে তাঁদের জায়গা করে দেওয়া যেত। অথচ গত একমাসে সে ব্যবস্থা করা হয়নি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার তারানগরের ইসলামুদ্দিনের বাড়ি থেকে বিএসএফের ওয়াচ-টাওয়ারের ৫০০ মিটার ভাঙন রোধে রাজ্য সরকার ৭ কোটি ৫২ লক্ষের কিছু বেশি টাকা বরাদ্দ করেছে। ইতিমধ্যে গত জুন মাসে ওই কাজের জন্য ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয় করে বোল্ডার দিয়ে বাঁধানোর কথা ওই এলাকা। কাজের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় এক বছর। তার মধ্যেই শুরু হয় বর্ষা ও বন্যা। ফলে তড়িঘড়ি করে বালির বস্তা দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়।
রবিবার রাতে বিলবোরাকোপরা গ্রাম পঞ্চায়েত লাগোয়া জঙ্গিপুর থানার শেখ আলিপুরে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এলাকার ভুট্টা, কপি এবং লিচুর বাগান সহ প্রায় ৫ বিঘা জমি তলিয়ে গিয়েছে পদ্মায়। বর্তমানে তারানগর, শেখ আলিপুর সহ আটরশিয়া প্রায়৩কিমি এলাকা পদ্মার ভাঙনের মুখে বলে দাবি স্থানীয়দের। নিজস্ব চিত্র