Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লালগোলা সীমান্ত এখন পাচারকারীদের মুক্তাঞ্চল, দাবি কেন্দ্রীয় এসসি কমিশনের সদস্য পার্থ বিশ্বাসের

লালগোলা সীমান্তে পাচারকারীরা অবাধে কাজ করছে, অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রীয় এসসি কমিশনের সদস্য পার্থ বিশ্বাস। বিস্তারিত জানুন।

লালগোলা সীমান্ত এখন পাচারকারীদের মুক্তাঞ্চল, দাবি কেন্দ্রীয় এসসি কমিশনের সদস্য পার্থ বিশ্বাসের
  • ৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: ভারত বাংলাদেশের সীমান্তের লালগোলা ব্লক পাচারকারীদের মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে। এই এলাকা দিয়ে অবাধে মাদক সহ বিভিন্ন জিনিস বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে। এই এলাকার পাচারকারীদের সঙ্গে আর্ন্তজাতিক পাচারকারীদের সম্পর্ক রয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলায় দু’দিনের রিভিউ পরিদর্শনে এসে কেন্দ্রের তফসিলি কমিশনের সদস্য পার্থ বিশ্বাস এমনই অভিযোগ তুললেন। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, আমি নিজে বাইকে ঘুরে দেখেছি জেলা পুলিশ পাচারকারীদের বন্ধ করতে আগে মোটেই সক্রিয় ছিল না। তাদের সঙ্গে জেলা পুলিশ জড়িত কি না, আমি জানি না। এনিয়ে জেলা পুলিশের সঙ্গে কথা হয়েছে। খুব দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে বলে জেলা পুলিশ আমাকে আশ্বস্ত করেছে।

Advertisement

গত মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদে আসেন কেন্দ্রের এসসি কমিশনের সদস্য পার্থবাবু। দু’দিনের জেলা পরিদর্শনে তিনি লালগোলা ব্লক এবং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যান। মঙ্গলবার স্থানীয় বিডিওকে নিয়ে লালগোলা ব্লক ঘুরে দেখেন। সাহাবাদ ও তারানগর দু’টি গ্রাম ঘুরে এসে বুধবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তাঁর অভিজ্ঞতা জানান। পার্থবাবু বলেন, ‘লালগোলা এলাকায় মানুষের প্রাথমিক চাহিদার(রাস্তা, আলো, পানীয় জল) কিছুই নজরে আসেনি। বেহাল রাস্তা। আর্সেনিক প্রবণ এলাকায় পানীয় জলের তীব্র সংকট রয়েছে। মানুষকে জল কিনে খেতে হয়। রাস্তা, ঘাটে আলোর অব্যবস্থায় সন্ধ্যা নামলে মহিলারা আতঙ্কে বাড়ির বাইরে বেরতে পারেন না।’ 
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের জন গণনা অনুসারে মুর্শিদাবাদ জেলায় ১২.৬ শতাংশ তফসিলি জাতির মানুষের বসবাস রয়েছে। কেন্দ্রের তফসিলি কমিশনের সদস্য পার্থবাবু এই তফসিলি অধ্যুষিত এলাকায় মানুষের অভাব অভিযোগের কথা এদিন সাংবাদিক বৈঠকে জানান। তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর আমি বাইকে চেপে ঘুরে এলাকার হালহকিকত জানার চেষ্টা করি। তাতে স্পষ্ট জানতে পারি এই এলাকা ‘স্মাগলারদের’ মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে। অবাধে পাচার চলছে। পুলিশ এতদিন সক্রিয়ই ছিল না। আমি মুর্শিদাবাদের পুলিশ জেলার সুপারকে নেটওয়ার্ক বাড়িয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেছি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। বিডিওকে পানীয় জল, পথবাতি, রাস্তার সমস্যা দ্রুত মিটিয়ে ফেলতে বলেছি। বুধবার বেলডাঙায় তফসিলি অধ্যুষিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যান পার্থবাবু। সেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, বেসরকারি ওই স্কুল কর্তৃপক্ষ সরকারি অনুমোদনের জন্য ২০১৩ সালে আবেদন করেছিল। ১৩ বছরেও সরকার কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় পড়ুয়ারা বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পার্থবাবু বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি তারা রাজনীতির শিকার হয়েছে। আমি জেলা শিক্ষাদপ্তরকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ