Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আজারবাইজানে বসে বালিগঞ্জের ব্যবসায়ীকে তোলা চেয়ে হুমকি, ঝাড়খণ্ডে ফিরিয়ে আনা গ্যাংস্টারকে হেফাজতে নিতে তৎপর লালবাজার

আজারবাইজান থেকে ফিরিয়ে আনা গ্যাংস্টার মায়াঙ্ক সিং ওরফে সুনীল মিনাকে হাতে পেতে তৎপরতা শুরু করেছে লালবাজার।

আজারবাইজানে বসে বালিগঞ্জের ব্যবসায়ীকে তোলা চেয়ে হুমকি, ঝাড়খণ্ডে ফিরিয়ে আনা গ্যাংস্টারকে হেফাজতে নিতে তৎপর লালবাজার
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: আজারবাইজান থেকে ফিরিয়ে আনা গ্যাংস্টার মায়াঙ্ক সিং ওরফে সুনীল মিনাকে হাতে পেতে তৎপরতা শুরু করেছে লালবাজার। খুব শীঘ্র ঝাড়খণ্ড পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। ঝাড়খণ্ড পুলিসের হেফাজত শেষ হলে তাকে হাতে পাওয়ার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে কলকাতা পুলিস।   

Advertisement

গ্যাংস্টার মায়াঙ্কের বিরুদ্ধে মামলা ঝুলে রয়েছে কলকাতায়। তিন বছর আগে বালিগঞ্জের কয়লা ব্যবসায়ীকে টাকা চেয়ে হুমকি মেসেজটি এসেছিল মায়াঙ্কের মোবাইল থেকে। তোলাবাজি, খুন সহ ৪০টি মামলায় অভিযুক্ত এই গ্যাংস্টার। সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে কলকাতা পুলিসের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছে সে। আজারবাইজানে বসেই মায়াঙ্ক কয়লা, রিয়েল এস্টেট সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠিয়ে তোলা চাইছিল বলে অভিযোগ। ঝাড়খণ্ড এটিএস মায়াঙ্ককে আজারবাইজান থেকে নিয়ে আসার পর তার বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করেছে কলকাতা পুলিস।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে বালিগঞ্জ থানা চক্রবেড়িয়া রোডে দুই যুবক এক কয়লা ব্যবসায়ীর অফিসে আসে। শূন্যে দু’রাউন্ড গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। চিঠি দিয়ে জানিয়ে যায়, কত টাকা তোলা দিতে হবে ওই কয়লা ব্যবসায়ীকে। পরদিনই ব্যবসায়ীর ফোনে একটি মেসেজ আসে। নিজেকে অমন সিংয়ের ডানহাত বলে পরিচয় দিয়ে গ্যাংস্টার মায়াঙ্ক ওরফে সুনীল ওই মেসেজটি লিখেছিল। বলা হয়, ব্যবসায়ীর অফিসে গুলি চলেছে শুধু আওয়াজ শোনানোর জন্য। খবর প্রচার হওয়ায় বস অমন জেনে গিয়েছে তার সঙ্গীরা বড় কাজ করেছে। এরপর যদি তার ও বসের কথা শোনা না হয়, তাহলে গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দেওয়া হবে। ঝাড়খণ্ড ও আসানসোলের কয়লা খনি এলাকায় কাজ করতে গেলে তাদের তোলা না দিলে কাজ করা যাবে না। সেই প্রথম লালবাজারের গোয়েন্দারা জানতে পারেন গ্যাংস্টার অমন ও মায়াঙ্কের শাগরেদরা সক্রিয় রাজ্যে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, আজারবাইজানে বসে মেসেজ পাঠাচ্ছে মায়াঙ্ক। জেলবন্দি অমন তার সঙ্গীকে দায়িত্ব দিয়েছে তোলা আদায়ের। গ্যাংয়ের চার সদস্যকে গ্রেপ্তারও করা হয়। 
ঝাড়খণ্ড পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে গোয়েন্দারা জানতে পারেন মায়াঙ্কের নামে খুন, তোলাবাজি, ডাকাতি সহ ৪০টির বেশি অভিযোগ রয়েছে। তার গ্যাং আসানসোল, রানিগঞ্জ ও পুরুলিয়ার খনি এলাকায় সক্রিয়। এখানকারই কয়লা ব্যবসায়ীরা মায়াঙ্ককে টাকা দিচ্ছে। তার শাগরেদরা এই টাকা সংগ্রহ করে মায়াঙ্কের নির্দেশমতো নির্দিষ্ট ডেরায় পাঠিয়ে দিচ্ছে। বালিগঞ্জ কাণ্ডের পর আসানসোলের একাধিক কয়লা ব্যবসায়ীর কাছে টাকা দাবি করে ফোন আসে মায়াঙ্কের। কিন্তু  আজারবাইজানে থাকায় তাকে জেরা করতে পারেননি গোয়েন্দারা। সপ্তাহ খানেক আগে তাকে ঝাড়খণ্ডে নিয়ে আসে এটিএস।  
মার্চে অমন সিং ওরফে সাহু এনকাউন্টারে খতম হওয়ার পর মায়াঙ্ক টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছিল আজারবাইজানে বসে। কয়লা ব্যবসায়ীদের মেসেজ পাঠাত। রাজ্যের যে সমস্ত ব্যবসায়ীকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়েছে, গ্যাংস্টার তাদের নাম জানিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ