Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সেন্ট্রাল লকআপের বন্দিদের পোশাক, কম্বল ‘ড্রাই ক্লিন’ করতে টেন্ডার ডাকল লালবাজার

সেন্ট্রাল লকআপের বন্দিদের পোশাক, কম্বল ‘ড্রাই ক্লিন’ করতে টেন্ডার ডাকল লালবাজার
  • ২৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: লালবাজারের সেন্ট্রাল লকআপে বন্দিদের যেসব হাফপ্যান্ট, শার্ট পরতে দেওয়া হয়, সেগুলি কতদিন পরিষ্কার হয়নি, কেউ বলতে পারবে না! গায়ে দেওয়ার কম্বলেরও একই অবস্থা! রাজনৈতিক নেতা থেকে জনপ্রিয় ইউটিউবার—হরেক অভিযোগে এই লকআপে ঢুকতে হয় অনেককেই। প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা কমবেশি এক। তাঁদের বক্তব্য, যে প্যান্ট, শার্ট দেওয়া হয়, তা লজ্জা নিবারণেরই উপযুক্ত নয়। ছেঁড়া-ফাটা তো আছেই, সেই সঙ্গে বছরের পর বছর না ধোয়ার কারণে দুর্গন্ধ থেকে ছারপোকার উপদ্রবে জেরবার হতে হয়। মানবাধিকার সংগঠগিুলিও বিষয়টি নিয়ে অনেকদিন ধরে সোচ্চার। অবশেষে সেন্ট্রাল লকআপে বন্দিদের জন্য রাখা প্যান্ট, শার্ট, কম্বল ‘ড্রাই ক্লিন’ করাতে উদ্যোগী হয়েছে লালবাজার। চলতি মাসের শুরুর দিকে লালবাজারে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে বন্দিদের পোশাক ও কম্বল পরিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু এ তো আর সামান্য কিছু পোশাক, কম্বল ধোয়ার বিষয় নয়! লালবাজারের সূত্রে খবর, সেন্ট্রাল লকআপের ২৩ হাজার ৯০০টি হাফপ্যান্ট, ২৩ হাজার ৬০০টি হাফশার্টের পাশাপাশি ১৬০০ কম্বল সাফ করাতে হবে। তাই এই কাজের উপযুক্ত সংস্থা বেছে নিতে টেন্ডার ডেকেছে কলকাতা পুলিস। প্রায় ৮ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা বাজেট ধার্য হয়েছে। 

Advertisement

দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের একাধিক মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করে আসছে, লালবাজার সেন্ট্রাল লকআপে বন্দিদের যেসব পোশাক দেওয়া হয়, তা কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য। শোওয়ার সময় যে কম্বল দেওয়া হয়, তার অবস্থাও তথৈবচ। এগুলি ব্যবহার করলে চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। কয়েক বছর আগে লালবাজারে ছ’রাত কাটিয়ে আসা এক ইউটিউবারের অভিযোগ, হাফ প্যান্টে বোতাম, চেইন কিছুই নেই। জামার নামে যা দেওয়া হয়, তা আদপে জামাই নয়। কাপড়ের টুকরো মাত্র! ফলে লজ্জা নিবারণও হয় না। এগুলি নিয়মিত কাচাকাচির কোনও বালাই নেই। চূড়ান্ত অস্বাস্থ্যকর এই কারবার বছরের পর বছর ধরে চলছে বলে তাঁর অভিযোগ। 
লালবাজারে বন্দি থাকাকালীন ভাঙড়ের বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকিও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তখন অবশ্য অভিযোগ নস্যাৎ করে লালবাজারকে কোনও বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি। 
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কলকাতা পুলিসের ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমারকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়গুলি রিজার্ভ ফোর্স দেখভাল করে।’ কলকাতা পুলিসের ডিসি ( রিজার্ভ ফোর্স) জাফর আজমল কিদোয়াইকে একাধিকারবার ফোন করা হলেও তিনি কথা বলেননি। হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হলেও রাত পর্যন্ত কোনও উত্তর আসেনি। সমস্যার ভুক্তভোগী তথা ভাঙড়ের বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি বলেন, ‘সেন্ট্রাল লকআপে যে পোশাক দেওয়া হয়, সেগুলির অবস্থা খুবই খারাপ। আমি শীতকালে ছিলাম। নিয়মিত কম্বল পরিষ্কার যে হয় না, তা হাড়েহাড়ে টের পেয়েছি। এসবের পরিবর্তন হওয়া দরকার।’  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ