অভিষেক পাল, বহরমপুর: গোয়েন্দাদের নজরে এবার বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢোকার সুরক্ষিত ‘করিডর’। সূতি সীমান্ত লাগোয়া লক্ষ্মীপুর গ্রামে নজরদারি শুরু হয়েছে। এই গ্রামের খোলা সীমান্ত দিয়েই শয়ে শয়ে অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে গত কয়েক মাস ধরে। এই করিডর ব্যবহার করেই বাংলাদেশি জেহাদি-দুষ্কৃতীরা এপারে এসেছে বলেই মনে করছেন গোয়েন্দারা। পরিকল্পনামাফিক যারা সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে হিংসাত্মক করে তোলে।
গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, বাংলাদেশ লাগোয়া সূতির লক্ষীপুর গ্রাম থেকে নিয়ম করে অনুপ্রবেশ চলত। সন্ধ্যা নামতেই শুরু হয় পারাপার। মাত্র সাত হাজার টাকার বিনিময়ে ওপার থেকে মানুষকে এপারে নিয়ে আসা হত। গোয়েন্দাদের কাছে এই করিডর নিয়ে বেশ কিছু তথ্য আগেই এসেছে। কাদের মদতে সেই করিডর তৈরি হয়েছিল খতিয়ে দেখা শুরু করছে তারা। জানা গিয়েছে, সূতির বাসিন্দা ‘ধুর পার্টি’র (অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার করানোর চক্র) দুই দালাল এই বিধানসভা এলাকায় এক প্রভাবশালী নেতার মদতেই অনুপ্রবেশ করানোর ব্যবসা করে। মোটা টাকার বিনিময়ে ওপার থেকে বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ করাত ওই দুই এজেন্ট। এপারে ঢুকিয়ে স্থানীয় গ্রামে রেখে কিছুদিন পর বিভিন্ন এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় ওই বাংলাদেশিদের। দীর্ঘদিন ধরে চলা অনুপ্রবেশের এই করিডর নিয়ে বিএসএফের ভূমিকাতেও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিসের একাংশ এই অনুপ্রবেশের ব্যাপারে জানত। কিন্তু প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে রফা ঠিক রাখার জন্য পুলিসও সেভাবে কোনও পদক্ষেপ করেনি।
এই অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যেই লুকিয়ে এপারে এসেছে কুখ্যাত দুষ্কৃতীরা। এমনকী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলদেশ জেল থেকে পালিয়ে আসা অনেক কুখ্যাত দুষ্কৃতী বোরখা পরেও এপারে চলে আসে। মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী গ্রামে ঘাঁটি গেড়ে স্থানীয় কিশোরদের মগজ ধোলাই শুরু করে তারা। এরাই এই ওয়াকফ আইন প্রত্যাহারের ইস্যুতে আন্দোলনে মিশে গিয়ে হিংসাত্মক আবহ তৈরি করছে বলেই মনে করছে গোয়েন্দারা। লক্ষ্মীপুর গ্রামের পাশাপশি রঘুনাথগঞ্জের বাহুরা সীমান্ত এবং সামশেরগঞ্জ ও সূতির থানার মধ্যবর্তী নিমতিতা সীমান্ত দিয়ে মাঝেমধ্যেই অনুপ্রবেশ ঘটে বলেই দাবি স্থানীয়দের।
এদিকে জঙ্গিপুর মহকুমায় ওয়াকফ আন্দোলনে তাণ্ডব চালানোর মূল চক্রী কয়েকজন যুবককে ইতিমধ্যে চিহ্নিত করেছেন গোয়েন্দারা। তবে তাদের কাউকে স্থানীয় লোকজন আগে দেখেননি বলেই দাবি। এই বহিরাগতদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়েছে। এই যুবকেরা মিছিলে থেকে তাণ্ডব এবং লুটপাট চালানোয় মদত দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ মিছিলের পিছনে থেকে পুলিসকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে। তারপর নানাভাবে পুলিসের গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে মিছিল থেকে উধাও হয়ে যায়। যেনতেন প্রকারে আন্দোলন যাতে হিংসাত্মক হয়ে ওঠে, সেই চেষ্টা ছিল তাদের।
যদিও বহিরাগত ইস্যুতে জঙ্গিপুর পুলিস সুপার আনন্দ রায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, অশান্তির ঘটনায় বুধবার রাত পর্যন্ত মোট ৬০টি মামলা হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে ২৭৪ জন। তদন্ত চলছে।