সংবাদদাতা, কালনা: দীপাবলি ও কালীপুজোয় মোমবাতির চাহিদার কথা মাথায় রেখে কালনা মুক্তারপুরে মোমবাতি তৈরির কাজ চলছে জোর কদমে। এবার বিভিন্ন রঙের মোমবাতির সঙ্গে লাল ও গেরুয়া রঙের মোমবাতির চাহিদা বেশি। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকররা এসে মোমবাতি নিয়ে যাচ্ছেন। পছন্দমতো অর্ডারও দিয়ে যাচ্ছেন।
কালনার মুক্তারপুরের বাসিন্দা শচীন্দ্র ব্যাপারি তাঁত বুনে সংসার চালাতেন। করোনা কেড়ে নেয় হাতের কাজ। তাঁতের কাজ না থাকায় আর্থিক অনটনে স্বামীর পাশে দাঁড়াতে ঋণ নিয়ে নিজের বাড়িতে মোমবাতি তৈরির কাজ শুরু করেন তাঁর স্ত্রী অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বিষ্ণুপ্রিয়া ব্যাপারী। করোনা পরিস্থিতিতে যখন সবাই আর্থিক দিক দিয়ে সমস্যায়। সেই সময় বাইরে থেকে পাইকারি মোমবাতি বিক্রেতারা কালনা সহ আশেপাশে আসতে পারেনি। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কালনার ও পাশ্ববর্তী এলাকা ধাত্রীগ্রাম, সমুদ্রগড়, গুপ্তিপাড়া সহ নবদ্বীপ প্রভৃতি এলাকায় স্বামী ও ছেলেকে দিয়ে দোকানে দোকানে মোমবাতি বিক্রি করে ভালো লাভ করেন। শ্রীবৃদ্ধি ঘটে ব্যবসায়। তার পর থেকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বারোমাস মোমবাতির চাহিদা থাকলেও বিশ্বকর্মাপুজো থেকে দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো কার্তিকপুজোর আগে মোমবাতির ব্যাপক চাহিদা থাকে। দোকানদাররা কোন কোন ধরনের মাল কতটা লাগবে তার আগাম অর্ডার দিয়ে দেন। পাঁচ টাকা থেকে পাঁচশো টাকা দামের মোমবাতি তৈরি করেন। তবে রঙিন মোববাতির মধ্যে এবার গেরুয়া রঙের মোমবাতির চাহিদা বেশি। বড় সাইজের মোমবাতি এক ঘন্টা থেকে আটচল্লিশ ঘন্টা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে জ্বলবে বলে দাবি বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর। তার কথায় কলকাতা থেকে ট্রান্সপোর্ট মাধ্যমে মোমবাতির মুল উপকরণ প্যারাফিন আনেন। তারপর তা গলিয়ে নিদিষ্ট লোহার ডাইসে ফুটন্ত মোম ঢেলে তৈরি করেন বিভিন্ন ডিজাইনের মোমবাতি। দীপাবলি ও কালীপুজোয় বিক্রিবাট্টা সব থেকে বেশী থাকে। তবে, আগের তুলনায় প্যারাফিনের দাম অনেকটাই বৃদ্ধি পাওয়ায় লাভ কিছুটা কমেছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, এলইডি আলোর দাপট সত্বেও আজও মোমবাতির গুরুত্ব রয়েছে। পুজো অনুষ্ঠান থেকে দীপাবলি, কালী ও কার্তিকপুজোয় ভালো চাহিদা রয়েছে। বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর ছেলে সুজিত ব্যাপারী কলকাতায় একটি ব্যাগের কারখানায় কাজ করেন। তবে, পুজোর সময় মাকে সাহায্য করেন। তিনি বলেন, পুজোর মরশুমে মায়ের সঙ্গে মোমবাতি তৈরির কাজে হাত লাগাই। তাতে বেশি মোমবাতি তৈরি করা যায়। লাভের অঙ্ক বাড়ে। মায়ের শারীরিক সমস্যার কারণে এখন আমি ও বাবা মিলে মার্কেটে বিক্রির বিষয়টা দেখি। বাড়িতে আরও কয়েকজন মহিলা কাজ করেন।
বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী বলেন, বৈদ্যুতিক আলো বাজারে এখনও দীপাবলি ও কালীপুজোয় মোমবাতির চাহিদা রয়েছে। গুনগত মান ঠিক রেখে মাল তৈরি করলে ও সঠিক মুল্যায়নে মার্কেটিংয়ে লাভ ভালো হয়। তবে ঘরোয়া উদ্যোগ। মুলধন কম থাকায় ব্যবসা বড় করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি আর্থিক সাহায্য পেলে ব্যবসা বড় করলে কর্মসংস্থান বাড়বে।



