রায়বাড়িতে বছরে চারবার লক্ষ্মীপুজো  হয়, কোজাগরীতে হতো সাদা পাঁঠা বলি
  • ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র ছিলেন ধর্মীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। তাঁর উত্তরসূরির শ্বশুরবাড়ি কৃষ্ণনগরের রায়বাড়িতে আজও সেই ঐতিহ্য ও পরম্পরা বজায় রয়েছে। প্রায় তিনশো বছরেরও বেশি প্রাচীন এই বাড়িতে বছরে চারবার লক্ষ্মীপুজো হয়। পৌষ, চৈত্র, ভাদ্র এবং কোজাগরী পূর্ণিমায় দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। প্রথম তিনটি পুজো বাড়ির অন্দরমহলে হলেও কোজাগরী পূর্ণিমার পুজো হয় ঠাকুরদালানে। একসময় এই পুজোয় সাদা পাঁঠা বলির প্রথা ছিল। তবে বর্তমানে সেই প্রথা বন্ধ হয়েছে। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পুত্রবধূ রানি ভবানী দেবীর আমল থেকে চলে আসা এই পুজোয় আজও রাজকীয় আয়োজনের পাশাপাশি অটুট রয়েছে গভীর ভক্তি ও নিষ্ঠা।

Advertisement

বাড়ির সদস্যরা বলেন, এই পুজো শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি আমাদের পারিবারিক বন্ধনের প্রতীক। আমাদের পুজোর রীতি অন্যদের তুলনায় অনেক আলাদা। বাড়ির বউদের নামেই পুজোর সংকল্প করা হয়ে থাকে। বাড়ির ছেলেরা ধান ভরা বেতের কাটা তথা শস্য পরিমাপের পাত্র মাথায় করে নিয়ে গিয়ে ঠাকুর দালানে মায়ের আসনে বসিয়ে দেয়। ধান দিয়েই মা লক্ষ্মীকে আহ্বান করা হয়। মাকে বেনারসী শাড়ি পরিয়ে রানির মতো সাজানো হয়। সেখানে কড়ি, পেঁচা সব থাকে। যে পাটে মা দুর্গা থাকেন, সেই পাটেই মা লক্ষ্মীর পুজো সম্পন্ন হয়।
বাড়ির গৃহবধূ পত্রিকা রায় বলেন, আমাদের বাড়িতে বছরে চারবার লক্ষ্মী পুজো হয়ে থাকে, নবান্নে নতুন ধান উঠলে সেই নতুন ধান বেতের কাটার মধ্যে দিয়ে  পৌষ মাসে মা লক্ষ্মীর পুজো করা হয়। তারপর বাকি তিনটে পুজো ওই একই ধান দিয়ে করা হয়। সেই সময় পায়েস, খিচুড়ি, পিঠে, ভাজা দিয়ে মাকে ভোগ নিবেদন করা হয়। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় মায়ের প্রসাদ হয় ভাজাভুজি। খই, চিঁড়ে, মুড়কি, জিলিপি, নাড়ু, মোয়া, পাঁচ ভাজা আর ফল। পুজো হয়ে গেলে কড়ি খেলা হয়। ধামার মধ্যে খই ও কড়ি মেশানো থাকে। সেটা মন্দিরে বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠ যিনি থাকেন তিনি চারিদিকে ছড়িয়ে দেন। যিনি কড়ি পাবেন তিনি সৌভাগ্যবান। মায়ের চারিদিকে কলাপাতা লাগানো থাকে, মায়ের শ্রী বৃদ্ধির জন্য। 
রায় পরিবারে সদস্য ওঙ্কার রায় বলেন, আমাদের পুজো হয় শাক্ত মতে, আগে তাই সাদা পাঁঠা বলি হত। এখন চাল কুমড়ো বলি হয়। তাই পুজো হয়ে গেলে আমাদের আমিষ নিরামিষ বলে কিছু বিধিনিষেধ নেই। সব খাওয়া যায়। মাকে পাথরের বাটিতে নারকেলের জল নিবেদন করা হয়। ঘরে এসে সেই জল চোখের পাতায় নেওয়া হয়। মায়ের হোমযজ্ঞ করা হয়। সময় বদলেছে, বদলেছে পুজোর কিছু রীতি। তবু তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রায়বাড়ির লক্ষ্মী আরাধনায় অটুট রয়েছে প্রাচীন পরম্পরা।