


• ‘বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী’— বাংলার এই প্রবচন আপনি জানেন। লক্ষ্মী দেবীর কৃপা থাকলে ঝাঁপি উপুড় করে উপচে পড়ে সৌভাগ্য। বাংলা ধারাবাহিকে আজ বুধবার থেকে সেই ‘লক্ষ্মী ঝাঁপি’র আগমন হল। চিত্রনাট্য অনুযায়ী মুখ্য চরিত্র ঝাঁপি এবং দীপ। ঝাঁপি ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখে। মানুষকে সঞ্চয়ের গুরুত্ব বোঝাতে চায় সে। যাতে লক্ষ্মী আসে ঘরে। আর ঝাঁপির জীবনে আসে দীপ। এই ধারাবাহিকের গল্পের প্রধান ‘মূলধন’ সঞ্চয়। রাতারাতি সঞ্চয় বৃদ্ধি পায় না, বিন্দুতেই সিন্ধু হতে পারে। ক্ষুদ্র সঞ্চয় থেকেই গড়ে উঠতে পারে বিরাট ব্যবসা। ঝাঁপির চরিত্রে অভিনয় করছেন শুভস্মিতা মুখোপাধ্যায়। দীপ্তার্কর চরিত্রে রয়েছেন সৌরভ চক্রবর্তী।
‘লক্ষ্মী ঝাঁপি’ ধারাবাহিকের গল্প মূলত বাস্তব থেকেই অনুপ্রাণিত। চিটফান্ড কাণ্ডের ছায়া রয়েছে গল্পে। রয়েছে বেশ কিছু সামাজিক বার্তাও। সঞ্চয় জরুরি, কিন্তু সেই সঞ্চয় সঠিক জায়গায় হচ্ছে কি না সেটা সবার আগে দেখা দরকার। নির্মাতাদের আশা সমাজে সচেতনতামূলক বার্তাও পৌঁছবে এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে। শুভস্মিতা এবং সৌরভ প্রথমবার জুটি বাঁধছেন এই ধারাবাহিকে। তাঁদের দু’জনের কাছেই সঞ্চয় গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা কতটা সঞ্চয়ী? দু’জনেরই সহাস্য উত্তর, ‘আমরা সঞ্চয়ী হতে চাই। কিন্তু, পরিস্থিতির চাপে হয়ে ওঠে না।’ সৌরভের কথায়, ‘সঞ্চয়ের গুরুত্ব নিজেদেরই সবার আগে বুঝতে হবে। আমরা নিজেরা যদি না বুঝতে পারি তাহলে অন্য কেউ বুঝিয়ে দিয়ে যাবে না। যে কোনও সময় অর্থনৈতিক অসুবিধা আসতে পারে। সেই মুহূর্তে নিজের সঞ্চয় কিন্তু টিকে থাকার রসদ হতে পারে। চারিদিকে প্রচুর খরচের হাতছানি রয়েছে। সেগুলোকে নিজেদেরই কন্ট্রোল করতে হবে।’ সৌরভ আরও বলেন, ‘আমাদের ধারাবাহিক সঞ্চয়ের গল্প বলবে। অভিজ্ঞতাও কিন্তু জীবনের বড় সঞ্চয়। যত অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকে ঠিক-ভুল, প্রেম-অপ্রেম সবটা পরিষ্কার হতে থাকে।’
‘ঝাঁপি’র মতো চরিত্রে এর আগে অভিনয় করেননি শুভস্মিতা। তাঁর কথায়, ‘যে কোনও বিপদে পড়লে অন্যের কাছে হাত পাতার থেকে নিজের সঞ্চয় থাকলে কিন্তু বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া যায়। আমাদের ধারাবাহিক সঞ্চয়ের পাশাপাশি অপেক্ষারও গল্প বলবে। ঝাঁপির জীবনে যে অপেক্ষা রয়েছে তাও কিন্তু সচরাচর দেখা যায় না।’ রূঢ় বাস্তব থেকে তুলে আনা টুকরো ঘটনা গেঁথেই তৈরি হয়েছে স্টার জলসার এই নতুন ধারাবাহিক।
পূর্বাশা দাস