


পৃথা চক্রবর্তী পরিচালিত ছবি ‘ফেরা’র মাধ্যমে টলিউডে পা রাখছেন অভিনেতা সঞ্জয় মিশ্র। কেমন সেই অভিজ্ঞতা?
• বিহারের দ্বারভাঙা জেলা থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৬০৮ কিমি। এই সামান্য পথ পেরিয়ে টলিউডের চৌকাঠ ডিঙোতে এতগুলো বছর লেগে গেল?
দেখুন, দ্বারভাঙা অর্থাৎ দুয়ার, দরওয়াজা। সেই দরজা দিয়ে আমার বাংলায় আনাগোনা অনেক কালের। দ্বারভাঙা আমার পারিবারিক ভিটে, কিন্তু জন্মেছি বড় হয়েছি পাটনায়। যে জায়গাটা বাংলার থেকে আরও কাছে। আমার বাবা ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই বাঙালি ছিলেন। যতীন ভট্টাচাৰ্য। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর শিষ্য ছিলেন। শ্যামাদাস মুখোপাধ্যায়, জ্যোতিষী। এঁদের সান্নিধ্য আমাকে অনুপ্রাণিত করত। আমার নানির পরিবারের অর্ধেকের বেশি মানুষের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের যোগ ছিল। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটকদের অস্তিত্বের উত্তাপ অনুভব করেছি কলকাতায় ঘোরাঘুরি করতে করতে। মনে মনে ভাবতাম, যদি বাংলা ছবিতে কাজের সুযোগ পাই! সেটা এতদিনে এল। আসলে উপরওয়ালা সব কিছুর জন্য সময় নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।
• ছবিতে আপনি পিতার ভূমিকায়...
হ্যাঁ... পান্নালাল আমার চরিত্র। সে নিজের মতো করে জীবনযাপন করা এক মানুষ। প্রাক্তন ফুটবল খেলোয়াড়। নিজের ভিটে, মূল্যবোধ, আদর্শ রক্ষা করে চলা প্রৌঢ়। সন্তানের দৃষ্টিভঙ্গি, জীবনবোধ বাবা-ছেলের মধ্যে ব্যবধান তৈরি করেছে। কোনো একটা ঘটনায় দুই প্রজন্ম পরস্পরের মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়।
• আজকের অভিভাবকদের সঙ্গে সন্তানের ব্যবধান কি ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে?
এই ব্যবধান আগেও ছিল। তবে এখনকার মতো এতটা নয়। এর জন্য দায়ি প্রযুক্তি। এখনকার সন্তানরা মোবাইল প্রজন্মের মানুষ। আমরা আবার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ফেসবুকে নয়, ফেস টু ফেস কথা বলায় আগ্রহী। দুই ভিন্ন অভ্যাসের জন্য দূরত্বটা বেড়েই চলেছে।
• আপনার সঙ্গে আপনার বাবার বন্ধনটা কেমন ছিল?
বাবা মারা যাওয়ার পর বুঝতে পারলাম বাবাকে কতটা ভালোবাসতাম। এই ভালোবাসাটা যদি ওঁর জীবৎকালে প্রকাশ করতাম, ভাবি তিনি কতটা খুশি হতেন।
• পরিচালকের ভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি কেমন লাগল?
এমন একটা ছবি দিয়ে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখলাম, আমি নিশ্চিত বাঙালি দর্শকের কাছে আমার শ্রদ্ধা বেড়ে যাবে। এর পুরো কৃতিত্ব পরিচালকের। আমার মেয়ের বয়সী হলেও ওঁকে আমি পৃথাদি বলে ডাকি। আমার প্রত্যেক সংলাপের নেপথ্যে উনি যতটা ধৈর্য দেখিয়েছেন, আমি অভিভূত। ওঁর নিজের প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বাবা ও সন্তানের সম্পর্কটা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন।
• শ্যুটিংয়ের সময় কলকাতাকে নতুন করে কতটা চিনলেন?
সব আগের মতোই আছে। ছোটোবেলার মায়ের সঙ্গে ভবানীপুরে এসে থাকতাম। শ্যুটিংয়ের সময় মাকে বারবার ভিডিও কল করে দেখাতাম।
• ফেরা কি আপনার আপন পিতৃত্বকে ফিরে দেখা?
একদম তাই। এটা সব সময়ের, সব রকম বাবাদের আবেগের গল্প। ‘ফেরা’ তাই আমারও পিতৃত্বের উদযাপন।
• আপনাকে কমেডি অভিনেতা হিসেবে বেশি মান্যতা দেওয়া হয়। এটাকে আপনি প্রশংসা হিসেবে দেখেন নাকি, আক্ষেপ?
আমি একজন অভিনেতা। তা সে কমেডি রোলেই হোক বা কোনো সিরিয়াস চরিত্র। কমেডিকে কেন আমি নিচু করে দেখব? পারফরম্যান্সই শেষ কথা। আমি পারফর্মার।
• বাঙালি কবে আপনাকে এখানকার মঞ্চে দেখতে পাবে?
আবার আমি থিয়েটার শুরু করেছি। মারাঠি নাটকের হিন্দি অনুবাদ। এই মুহূর্তে ‘ঘাসিরাম কোতোয়াল’ করছি। শিগগিরই কলকাতায় শো করব।
প্রিয়ব্রত দত্ত