সংবাদদাতা, কাটোয়া : উৎসবের মরশুমের মুখে সিন্থেটিক কাপড়ের মালা শিল্পের হাত ধরেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে কাটোয়ার দুর্গাগ্রাম, বনগ্রাম, পঞ্চাননতলা গ্রামগুলির বাসিন্দারা। রঙবেরঙের মালা গেঁথেই সাবলম্বী হচ্ছেন মহিলারাও৷ বিশ্বকর্মাপুজোর আগে গ্রামজুড়ে চূড়ান্ত ব্যস্ততা শুরু হয়েছে৷
কাটোয়া-১ ব্লকের করজগ্রাম অঞ্চলের পঞ্চাননতলা, দুর্গাগ্রামের বেশির ভাগ বাড়িতেই সিন্থেটিক কাপড়ের মালা তৈরির কাজ হয়। বাড়ির পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও মালা গাঁথেন৷ আর এই তিন গ্রাম থেকেই মূলত সিন্থেটিক কাপড়ের মালা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যায়। বাড়ি বসেই মহিলারা কাপড় কেটে নানা ফুল, জবা ছাড়াও বিভিন্ন ধরণের পরিবেশ বান্ধব মালা তৈরি করছেন। বিশ্বকর্মা, গণেশের আরাধনার মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে বাঙালির পুজো মরশুম। ফলে বিভিন্ন পুজোয় নানারকম মালা তৈরি করেই আয় করছেন পরিবারগুলি। রঙবেরঙের কাপড়, পাট, জড়ি, রেশম সূতো, শিট পেপার প্রভৃতি দিয়েই তৈরি হচ্ছে একের পর এক মালা। রেশম সূতো কাঠের যন্ত্রে পাক খাইয়ে মালা তৈরি হয়। আবার কাপড় কেটে তৈরি করা ফুল হাতে করে গেঁথেও মালা তৈরি করেন শিল্পীরা। আর এই মালা কাটোয়া মহকুমার বিভিন্ন বাজারের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বা বিভিন্ন জেলা গুলিতেও পাঠানো হচ্ছে। দুর্গাপুজোতেও এই মালার চাহিদা থাকে ব্যপক।
দুর্গাগ্রামের বাসিন্দা তথা শিল্পী বাবু চুনারী বলেন, ১৫ বছর ধরে এই কাজ করছি। বাবার কাছ থেকেই শিখেছি। আমাদের এখানে প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে এই কাজ চলছে। রেশম, পাট, জরি, ফুল-সহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে মালা তৈরি করি। বিশ্বকর্মা পুজোর জন্য হাতে আর সময় নেই৷
মালা শিল্পী মমতা দাসের কথায়, সংসারের সব কাজ সেরে সারাদিন একাজ করি। এখন গভীত রাত পর্যন্ত আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। এখন আর স্বামীর কাছে হাত পাততে হয় না৷ আমরা নিজেরাই কিছু আয় করতে পারি। এক ডজন কাপড়ের পরিবেশ বান্ধব মালার দাম প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। সারাদিনে ২৫ থেকে ৫০ ডজন মালা তৈরি হয়। ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের জন্য যে ঋণ দেওয়া হয় সেটুকু পেলেও এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা যেত। তবে প্লাস্টিক বন্ধ হওয়ায় সবাই পরিবেশ বান্ধব মালার খোঁজই করছেন। বর্তমানে কাটোয়া থেকেই কলকাতা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ সহ বিভিন্ন জেলায় মালা সরবরাহ করা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, মালাশিল্প এখন যে জায়গায় দাঁড়িয়েছে, তাতে অনায়াসে কাটোয়ার তিনগ্রামকে মালা গ্রাম বললেও ভুল হবে না৷