Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ধনতেরসের জন্য মেদিনীপুরে লক্ষ্মীপ্রতিমার দেদার বিক্রি

ধনতেরসে এবছর চার হাতের লক্ষ্মী প্রতিমার চাহিদা তুঙ্গে। প্রতিবছর এই একদিনে কয়েক লক্ষ টাকার ব্যবসা হওয়ায় মেদিনীপুর শহরের কাসা, পিতলের ব্যবসায়ীদের মুখে চওড়া হাসি থাকে।

ধনতেরসের জন্য মেদিনীপুরে লক্ষ্মীপ্রতিমার দেদার বিক্রি
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর:  ধনতেরসে এবছর চার হাতের লক্ষ্মী প্রতিমার চাহিদা তুঙ্গে। প্রতিবছর এই একদিনে কয়েক লক্ষ টাকার ব্যবসা হওয়ায় মেদিনীপুর শহরের কাসা, পিতলের ব্যবসায়ীদের মুখে চওড়া হাসি থাকে। শুধু চার হাত বিশিষ্ট লক্ষ্মী ঠাকুরই নয়, গণেশ সহ বিভিন্ন দেব, দেবীর মূর্তিও দেদার বিক্রি হয় ধনতেরাসে। 

Advertisement

কিন্তু প্রশ্ন, ধনতেরসের দিনেই কেন ভিড় উপচে পড়ে দোকানগুলিতে! শহরের বাসিন্দাদের কথায়, অনেকেই মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন এই তিথিতে কাঁসা, পিতল থেকে সোনা অর্থাৎ যে কোনও ধাতুর জিনিস কেনা অত্যন্ত শুভ। ধনতেরসে ধাতু কিনলে বছরভর পরিবারে  উন্নতি ও শ্রীবৃদ্ধি বজায় থাকে। জনশ্রুতি, কার্তিক কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে কেনাকাটার নিয়ম রয়েছে। তাই হাট - বাজার থেকে এদিনে ধাতুর তৈরি জিনিস অনেকেই কিনে থাকেন। আবার এদিনই লক্ষ্মী ও কুবেরের পুজোও হয়। বর্তমানে সোনা - রুপোর দাম অস্বাভাবিক বেশি থাকায় অনেকেই তা কিনতে পারেন না। তাই কাঁসা, পিতলের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। 
মেদিনীপুর শহরের কাঁসা, পিতল ব্যবসায়ী অসীম কাইতি বলেন,  ধনতেরসের প্রচলন আগে এত ছিল না। এখন তো ওই একটা দিন প্রচুর বিক্রি হয়। শহরের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ দোকানে আসেন। চার হাতের লক্ষ্মী প্রতিমার বিক্রি হচ্ছে অনেক বেশি। আমরা এই একটা দিনের জন্য বছরভর অপেক্ষা করি। 
প্রসঙ্গত, ধনতেরসের কেনাকাটায় পিছিয়ে নেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। দীপাবলীর দু’দিন আগেই এই বিশেষ দিন উদযাপিত হয়। পাঁচ দিনের দীপাবলী উৎসবের তৃতীয় দিনে এই ধনাত্রয়োদশী বা ধনবত্রী ত্রয়োদশী। এদিন দামি ধাতু কেনার প্রচলন অবাঙালীদের মধ্যে রয়েছে। তবে গত কয়েকবছরে গোটা রাজ্যজুড়েই এই দিনে কেনাকাটার প্রচলন শুরু হয়েছে। মূলত সম্পদের দেবতা কুবেরের পুজো হয় এদিন। তাই ধাতু সহ বিভিন্ন জিনিস কেনার প্রথা রয়েছে। এছাড়া অনেকেই মনে করেন, এই বিশেষ দিনে ঠাকুরের বাসন কেনা শুভ। তাই পুজোর বাসনও দেদার বিক্রি হয় এদিন। ধাতুর পাশাপাশি এই  সময় ইলেকট্রনিক্সের জিনিস ও গাড়ি কেনাও শুভ বলে ধরা হয়। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর শহর ছাড়াও কেশপুর, গড়বেতা, শালবনী সহ গ্রামীণ এলাকার কাঁসা, পিতলের দোকানগুলিতে ভিড় জমান ক্রেতারা। অপরদিকে, শহরের সোনার দোকানগুলিতেও উপচে পড়ে ভিড়। প্রতিটি কাঁসা, পিতলের দোকানে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জন ক্রেতা আসেন। গড়ে ৪ থেকে ৬ লক্ষ টাকার জিনিস বিক্রি করে প্রতিটি দোকান।  মেদিনীপুরের কাঁসা, পিতল বিক্রেতা শম্পা কালীর কথায়, ধনতেরাসে প্রতিবছর ভালোই ভিড় হয়। বছর বছর ভিড় বাড়ছে।  আরএক গৃহবধূ ফাল্গুনী মাইতি বলেন, নিয়ম করে ধনতেরসে কেনাকাটা করি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ