নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: ভোটের আগে নদীয়া জেলার মতুয়াদের ভোটাধিকার ফেরাতে তৎপর হতে দেখা গিয়েছিল বিজেপিকে। কিন্তু, ভোট মিটতেই অন্য রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি তাদের ‘তৎপরতা’ও উধাও হয়ে গিয়েছে। একই বক্তব্য তৃণমূলের ক্ষেত্রেও। ‘মামলা লড়তে বিনামূল্যে উকিল দেওয়া হবে’-বিধানসভা নির্বাচনের সময় ভোটাধিকার হারানো বিচারাধীন ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তৎকালীন শাসক দল। ভোটারদের ট্রাইবুনালে আবেদন করতেও বলেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সেজন্য তৃণমূল-কংগ্রেস বিভিন্ন গ্রামে শিবির করেছিল ভোটাধিকার হারানো ভোটারদের ট্রাইবুনালে আবেদন করাতে। কিন্তু, ভোটে হেরে যাওয়ায় তারাও আর মাঠে নেই।
নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত নদীয়া জেলায় মাত্র ৩৯ জন ভোটার ট্রাইবুনালে ছাড়পত্র পেয়েছিলেন। তারপর ট্রাইবুনাল সংক্রান্ত আর কোনো তথ্য জেলা প্রশাসনের কাছে এসে পৌঁছায়নি। ফলে এখনো লক্ষাধিক ভোটার তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন। অনেকে বলছেন, এখন বিজেপি, তৃণমূলের নেতারা নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। ভোটে জেতার পর বিজেপি নেতারা তো ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছেন।
নদীয়া জেলায় বহু মুসলিম ও মতুয়ার নাম এসআইআরে বাদ গিয়েছে। মাস দুই আগেও ভোটাধিকার হারানোর বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কিন্তু, এখন এসআইআর নিয়ে কোনো দলই উচ্চবাচ্চ করছে না। অথচ এখনো নদীয়া জেলার লক্ষ ভোটারের ভোটাধিকার অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে। কারণ, ট্রাইবুনালে কাকে বৈধ ভোটার এবং কাকে অবৈধ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে তা জানাই যাচ্ছে না।
নাকাশিপাড়া ব্লকের বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, হরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বান্দাখোলা গ্রামে আমার বড়দা সহ প্রায় ৪০০ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। সকলেই ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। কিন্তু, হিয়ারিংয়ে এখনো কাউকে ডাকা হয়নি। তাঁরা আতঙ্কে রয়েছেন। ভোটের আগে সব দলের নেতা পাশের থাকার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু, এখন তাঁদের টিকি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। হাঁসখালির বাসিন্দা মতুয়া সম্প্রদায়ের ব্রজেন অধিকারী বলেন, ট্রাইবুনালে আবেদন করেছি। এখনো ডাক আসেনি। তবে সিএএ সার্টিফিকেট পেয়েছি। তাই কিছুটা নিশ্চিন্ত লাগছে। প্রসঙ্গত, নদীয়া জেলায় এসআইআর পর্বে ২ লক্ষ ৬৭ হাজার নাম বিচারাধীন ছিল। কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের স্ক্রুটিনির পর নদীয়ায় ২ লক্ষ ৮ হাজার ভোটারের নাম বাদ যায়। ৬০ হাজার বিচারাধীন ভোটারের নাম তালিকায় উঠেছিল। এবিষয়ে বিজেপি নেতা সন্দীপ মজুমদার বলেন, ভোটের আগে রাজনৈতিক স্বার্থে তৃণমূল মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ভোটাধিকার নিয়ে আমরা মতুয়াদের পাশে থেকেছি। শীর্ষ মহলকেও অবগতও করা হয়েছে। তৃণমূল নেতা অয়ন দত্ত বলেন, বিজেপি বহু মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। তৃণমূল ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই করেছে। আগামী দিনেও তৃণমূল মানুষের পাশে থাকবে। সিপিএম নেতা সুমিত বিশ্বাস বলেন, তৃণমূল ও বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া কখনো মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করে না।
• নিজস্ব চিত্র