Bartaman Logo
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুঃস্থ মহিলার ঘর থেকেই উদ্ধার হল লক্ষাধিক টাকা

পাড়ার মানুষের দেওয়া খাবার আর সামান্য সাহায্যেই যাঁর দিন চলত, সেই দুঃস্থ মহিলার ঘর থেকেই উদ্ধার হল লক্ষাধিক টাকা। ছেঁড়া কাপড়, প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ, ঘরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা অবস্থায় মিলল পুরনো নোট থেকে শুরু করে প্রায় এক বস্তা কয়েন।

দুঃস্থ মহিলার ঘর থেকেই উদ্ধার হল লক্ষাধিক টাকা
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: পাড়ার মানুষের দেওয়া খাবার আর সামান্য সাহায্যেই যাঁর দিন চলত, সেই দুঃস্থ মহিলার ঘর থেকেই উদ্ধার হল লক্ষাধিক টাকা। ছেঁড়া কাপড়, প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ, ঘরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা অবস্থায় মিলল পুরনো নোট থেকে শুরু করে প্রায় এক বস্তা কয়েন। টাকা উদ্ধারের ঘটনায় কার্যত চোখ কপালে উঠেছে শিকারপুর বারুইপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের। মুরুটিয়া থানার শিকারপুর বারুইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ্ব যমুনা ঘোষাল ছিলেন নিঃসন্তান। দীর্ঘদিন স্বামীর থেকে আলাদা থাকতেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, আর্থিক অভাবের পাশাপাশি মানসিক সমস্যাতেও ভুগতেন ওই মহিলা। একটি ছোট ঘরে কোনোরকমে তাঁর দিন কাটত। পাড়ার বিভিন্ন বাড়িতে ছোটখাটো কাজ করে যা উপার্জন করতেন, তাতেই চলত তাঁর জীবন। তবে খাবারের অভাব যাতে না হয়, সে বিষয়ে সবসময় নজর রাখতেন প্রতিবেশীরা। পাড়ার মানুষই তাঁকে কখনও টাকা, কখনও খাবার, আবার কখনও পোশাক দিয়ে সাহায্য করতেন। স্থানীয় অমিয় মণ্ডল বলেন, পাড়ার সবার ভালবাসাতেই উনি বেঁচে ছিলেন। আর্থিক অনটনের কথা জানত সবাই। তাই যে যেমন পারত, দু’পাঁচ টাকা করে সাহায্য করত। কয়েক দিন আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন যমুনা। পাড়ার মঞ্জু মণ্ডল জানান, বুধবার তাঁকে দেখতে গিয়ে তাঁর নোংরা-আবর্জনায় ভর্তি ঘরের কয়েক জায়গায় টাকা চোখে পড়ে। তারপর ঘরের সর্বত্র খুঁজতে শুরু করেন পাড়ার লোকজন। বিভিন্ন জায়গা থেকে বেরিয়ে আসে প্রায় এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা। কোথাও ছেঁড়া কাপড়ে বাঁধা, কোথাও প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগে, আবার কোথাও ঘরের আনাচে-কানাচে পড়ে ছিল নোট ও কয়েন। স্থানীয়দের দাবি, উইয়ে খেয়ে এবং পচে-ছিঁড়ে যাওয়ায় বেশ কিছু টাকা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। 

Advertisement

উদ্ধার হওয়া টাকার মধ্যে পুরনো ২ হাজার, ১ হাজার ও ৫০০ টাকার নোট যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে ১ টাকা, ১০ টাকা-সহ বিভিন্ন মূল্যের নোট ও কয়েন। প্রায় এক বস্তা কয়েনও পাওয়া যায়। পাড়ার প্রায় ১৫ জন যুবক-যুবতী মিলে টাকা গুনে এক জায়গায় রাখেন। অসুস্থ যমুনার চিকিৎসায় ওই টাকা খরচ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যু হয় তাঁর। যমুনার মৃত্যুর পরেও তাঁর জমানো টাকা নিয়ে কোনো ব্যক্তিগত দাবি করতে চান না এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মহিলার সমস্ত টাকা তাঁর সৎকার এবং পারলৌকিক কাজেই খরচ করা হবে। যে পাড়া এতদিন তাঁকে আগলে রেখেছিল, 
মৃত্যুর পরও সেই পাড়াই তাঁর শেষ দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ