সংবাদদাতা, কাটোয়া: একটানা ভারী বৃষ্টিতে কাটোয়া ও দাঁইহাট দুই শহরই জলমগ্ন। রাস্তায় জল জমেছিল হাঁটু পর্যন্ত। তা নামতে অনেক সময় লেগেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নিম্নচাপের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি হয়। রাস্তায় জল হাঁটু পর্যন্ত জল জমে গিয়েছিল। সেই জল ডিঙিয়েই মানুষকে কাজকর্ম সারতে হয়েছে। নিকাশি নালা উপচে নোংরা জল মিশেছে বৃষ্টির জমা জলে। পচা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার জেরে কাটোয়া ও দাঁইহাট শহরের একাধিক ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
কাটোয়া শহরের সার্কাস ময়দান, কাছারি রোড, মাধবীতলা রোড সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় হাঁটু সমান জল জমে গিয়েছিল। কেডিআই স্কুলের সামনে হাঁটুজল। শহরের ন্যাশনাল পাড়া, স্টেডিয়াম পাড়ার গলিগুলিতে কোমর সমান জল। এছাড়াও ২ নম্বর ওয়ার্ডের ফরিদপুর কলোনি ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের খালপাড়াতেও জল জমেছে। বাসিন্দাদের দাবি, নিকাশি নালাগুলি অপরিষ্কার। ফলে জল ঠিকমত বের হচ্ছে না। ফরিদপুর কলোনি, খালপাড়ার বেশ কয়েক ঘর বাসিন্দা জলমগ্ন হয়ে পড়েছেন। ঘরের ভিতরে পচা দুর্গন্ধযুক্ত জল ঢুকে রয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বাসিন্দাদের ক্ষোভ বাড়াচ্ছে।
দাঁইহাট শহরেও পরিস্থিতি আরও ভয়ানক। বেড়া উত্তরপাড়ায় হাঁটুসমান জল। বেশকিছু বাসিন্দার বাড়ির উঠোনে জল জমে রয়েছে। অপরিষ্কার নিকাশির জন্য মশার উপদ্রব বেড়েছে। বাসিন্দাদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে। মিতালি সাহা, উন্নতি দাসরা বলেন, শহরের পুকুরগুলি বৃষ্টিতে ভরে গিয়েছে। নিকাশি নালা অপরিষ্কার হওয়াছয় জল জমে যাচ্ছে। চলাফেরা করা যাচ্ছে না। শহরের মজে যাওগা পুকুরগুলি পুরসভা সংস্কার করছে না।
এদিন বৃষ্টিতে দাঁইহাট শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গণেশ জননীতলায় জল জমে গিয়েছিল। পাশাপাশি ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পেচো পুকুরপাড় এলাকাতেও হাঁটু সমান জল। শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেরা উত্তরপাড়াতে জল জমেছে। বেশ কয়েকজনের বাড়িতে নিকাশি নালার জল ঢুকে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দাঁইহাট শহরের নিকাশি নালাগুলির জল পড়ত পুকুরগুলিতে। কিন্তু পুকুর সংস্কার না হওয়ায় নিকাশি নালা উপচে জল বাড়িতে ঢুকেছে। ১৪ ওয়ার্ড বিশিষ্ট পুরসভা এলাকায় আবর্জনার স্তূপ জমে নিকাশি নালাগুলি থেকে তৈরি হয়েছে মশার চাঁক। পুরানো আমলের নিকাশি ব্যবস্থার পরিবর্তন চাইছেন শহরের বাসিন্দারা। নিকাশি নালাগুলি থেকে ঠিকমতো বেরচ্ছে না। যার ফলে ভোগান্তি হচ্ছে বাসিন্দাদের। শহরের নিকাশি নালা কোথাও দুই ফুটের বেশি চওড়া নয়। শুধু তাই নয়, নিকাশি নালাগুলির গভীরতাও কম। তাই সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়ে যায়।