শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: সাইবার প্রতারণার হটস্পট হয়ে উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুর। ভিনরাজ্যে সাইবার প্রতারণার টাকা এখানকার বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে। কখনও চেক, আবার কখনও এটিএম কাউন্টার থেকে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে সম্প্রতি সাইবার জালিয়াতির অ্যাকাউন্টের টাকায় শহরের একটি নামী স্বর্ণবিপণি সংস্থা থেকে গয়না কেনার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সাইবার জালিয়াতিতে ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টের টাকায় চারবার ওই সংস্থা থেকে সোনা কেনা হয়েছে। সবমিলিয়ে, ৪০লক্ষ ৩৮হাজার টাকার বিনিময়ে সোনা কেনা হয়। এরপরই ওই স্বর্ণবিপণির অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয় গুজরাতের আমেদাবাদের সাইবার ক্রাইম থানা। তারপর ৩আগস্ট অ্যাকাউন্ট থেকে ১৭লক্ষ ১৮হাজার ২৫৯টাকা তুলে নিয়েছে গুজরাত পুলিশ। পুরো ঘটনায় সংস্থার কর্মকর্তাদের মাথায় হাত পড়েছে। ২২সেপ্টেম্বর ওই সংস্থার তরফে তমলুক শহরের উত্তরচড়া শংকরআড়ার বাসিন্দা সুদীপ সামন্ত তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর করেছেন।
২১জুলাই ১৭লক্ষ ১৮হাজার ২৫৯, ১৭আগস্ট ১৫লক্ষ ৪হাজার ৭২৭, ২৭আগস্ট ২লক্ষ ৫৯হাজার ৮২০ এবং ২৯আগস্ট ৫লক্ষ ৫৫হাজার ৮৪৬টাকা দিয়ে তমলুক শহরের ওই দোকান থেকে সোনা কেনা হয়। ক্রেতাদের নাম সোনার দোকানে নথিভুক্ত রয়েছে। ‘মিউল’ অ্যাকাউন্ট অর্থাৎ সাইবার অপরাধের জন্য ভাড়ায় দেওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ওই সোনার দোকানে পেমেন্ট করা হয়। ভিনরাজ্যে সাইবার জালিয়াতির পর ওই সমস্ত অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছিল। এরপরই সাইবার জালিয়াতির তদন্তে নেমে সোনার দোকানে টাকা ট্রান্সফারের তথ্য পেয়ে ওই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয় ভিনরাজ্যের পুলিশ। তখনও বিষয়টি স্বর্ণবিপণি সংস্থার কর্মকর্তারা বুঝতে পারেননি। ৩আগস্ট ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ১৭লক্ষ ১৮হাজার ২৫৯টাকা আমেদাবাদ পুলিশ তুলে নেয়। এরপরই সংস্থার কর্তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে।
এদিকে, বুধবারই তমলুক থানার পুলিশ সঞ্জিত আদক ও সুকান্ত পাইক নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের রাধামণি শাখায় চেকের মাধ্যমে ১৫লক্ষ টাকা তুলেছে। মহারাষ্ট্রে সাইবার প্রতারণার টাকা ওই অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল বলে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল(এনসিআরপি) থেকে পুলিশ জানতে পারে। একইভাবে, রামনগরে একটি অ্যাকাউন্টে প্রতারণার একলক্ষ টাকা ঢোকার পর এটিএম থেকে ১০বারে তা তুলে নেওয়া হয়েছে। তমলুক সাইবার ক্রাইম থানার তরফে রামনগর থানার ওসিকে এফআইআর করে পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।
এর আগে এরাজ্যে সাইবার প্রতারণার টাকা ভিনরাজ্যের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিত অপরাধীরা। সেই টাকা অন্য দেশেও পৌঁছে যেত। এখন উলটোটাও ঘটছে। সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুরে শুধুমাত্র তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ৩৪টি অ্যাকাউন্টের তালিকা পায় তমলুক সাইবার ক্রাইম থানা। ওই সমস্ত অ্যাকাউন্ট সাইবার প্রতারণার জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। জুলাই মাসে একসপ্তাহে ওই ৩৪টি অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়। এরপর তমলুক, কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, চণ্ডীপুর, ভগবানপুর, ভবানীপুর প্রভৃতি থানায় অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়। সবমিলিয়ে, আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।