


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: খেজুরি-২ ব্লকের রামচক ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসে উপভোক্তাদের সই নকল করে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠল পোস্ট মাস্টারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত পোস্ট মাস্টার প্রদীপ্ত মাঝিকে সাসপেন্ড করেছে পোস্টাল বিভাগের কাঁথির সুপার। পাশাপাশি ১৭অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে খেজুরি থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন কাঁথি-২ সাব ডিভিশনের পোস্টাল ইন্সপেক্টর বাবুসাহেব জানা। গোটা ঘটনায় দপ্তরের মধ্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এনিয়ে ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। একইসঙ্গে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, খেজুরি-২ব্লকের রামচক গ্রামের ২২বছরের প্রদীপ্ত নিজের গ্রামে ব্রাঞ্চ পোস্টঅফিসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩সালে ১৬জানুয়ারি থেকে ২০২৪সালে ২১নভেম্বর পর্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্ত আমানতকারীদের কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শেষ হয়েছে। তাতে অনেক আমানতকারীর টাকা তছরুপের ঘটনা সামনে এসেছে। যেমন, সুখেন্দু মণ্ডলের সেভিংস অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ২০২৪সালের ৫থেকে ২৩সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঁচ দফায় তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে এক লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। সুখেন্দুবাবুর সই জাল করে ওই টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে উইথড্রয়াল স্লিপে নকল সই করে আর এক উপভোক্তা আরতি পাত্রের অ্যাকাউন্ট থেকে ১লক্ষ ৮০হাজার টাকা তোলা হয়েছে। এছাড়াও আরতিদেবীর কাছ থেকে নগদ ২০হাজার টাকা নিয়েছেন ওই পোস্ট মাস্টার।
২০২৪সালে ১১জুলাই অমিত প্রধান পাঁচ হাজার টাকা জমা করার জন্য ওই পোস্ট অফিসে যান। তিনি টাকা জমা করেন। অভিযুক্ত পোস্ট মাস্টার তাঁর পাসবইয়ে সেই টাকা জমা হয়েছে বলে এন্ট্রিও করেন। অথচ, অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়া হয়নি। মাধবী দাস নামে আর এক আমানতকারীর অ্যাকাউন্ট থেকে পরপর দু’দিন ৪০হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন ওই পোস্ট মাস্টার। এই অনিয়মের কথা অভিযুক্ত স্বীকার করেছেন বলেও পোস্টাল ইন্সপেক্টর পুলিশকে জানিয়েছেন।
খেজুরি-২ব্লকের রামচক পোস্টঅফিসে ওই আর্থিক অনিয়মের ঘটনা সামনে আসার পরই অভিযুক্তকে সাসপেন্ড করা হয়। তবে, প্রাথমিক তদন্তে বেশ কয়েক লক্ষ টাকা অনিয়মের আভাস মিলেছে। তাই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর করার সিদ্ধান্ত হয়। আপাতত তাঁকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত শেষ হলে আর্থিক অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সামনে আসবে বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে গত ৪অক্টোবর নন্দীগ্রাম-২ব্লকের অধীন কমলপুর ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসে আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় সেখানকার পোস্ট মাস্টারকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। ওই পোস্ট অফিসে ৫৫হাজার টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযুক্ত পোস্ট মাস্টার সেকথা স্বীকার করে ৫৫হাজার টাকা জমাও করে দেন। তবে, খেজুরির রামচক পোস্ট অফিসে দুর্নীতি হওয়া টাকার পরিমাণ অনেক বেশি।
অভিযোগকারী পোস্টাল বিভাগের কাঁথি-২ সাব ডিভিশনের ইন্সপেক্টর বলেন, আমাদের বিভাগীয় তদন্তে রামচকের ঘটনা সামনে আসে। অভিযুক্তকে ডিউটি থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় তদন্তও চলছে। অভিযুক্ত পোস্ট মাস্টার প্রদীপ্ত মাঝির মোবাইল বন্ধ থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। খেজুরি থানার পুলিশ জানিয়েছে, রামচক পোস্ট অফিসের প্রাক্তন পোস্ট মাস্টারের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।