নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বুধবার স্কুলে সহপাঠীর হাতে সে আক্রান্ত হয়েছিল। চশমার ডাঁটি সজোরে তার কানের ভিতর ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর আঘাত পায় কানে। চিকিৎসা চলছিল। ওই ঘটনার পরদিনই বৃহস্পতিবার তিনতলা ছাদ থেকে নীচে পড়ে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হল আক্রান্ত ওই ছাত্রের। এই ঘটনায় ছাত্রের লেকটাউনের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কান্নায় ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার। পুলিস ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম শুভব্রত ঠাকুর চক্রবর্তী (১৪)। সে দমদমের একটি বেসরকারি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। এই ঘটনায় লেকটাউন থানার পুলিস একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে।
মৃত ছাত্রের বাবা কমলেশ ঠাকুর চক্রবর্তী বলেন, ‘ছেলের কয়েকজন সহপাঠী স্কুলে ওকে প্রায়ই মারধর করত। কিছুদিন আগে কোমরে লাথি মেরেছিল। স্পাইনাল কর্ডে আঘাত পেয়েছিল। ওকে টিফিন খেতে দিত না, কেড়ে নিত। বুধবার এক সহপাঠী চশমার ডাঁটি ছেলের কানে ঢুকিয়ে দেয়। স্কুল থেকে ফোন পেয়ে আমি ছেলের সঙ্গে কথাও বলি। কিন্তু, ও ছুটির পরই বাড়িতে ফেরে। ওকে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ দেওয়া হয়। আঘাতের জন্যই বৃহস্পতিবার ছেলে স্কুলে যায়নি। বাড়িতেই ছিল। আমাদের তিনতলা বাড়ি। দুপুরে সে ছাদে উঠেছিল। আমপাতা ধরতে গিয়ে নীচে পড়ে যায়। আমি অফিসে ছিলাম। খবর পাওয়া মাত্রই বাড়িতে এসে দেখি, সব শেষ।’
আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা? কমলেশবাবুর দাবি, ‘ও পড়েই গিয়েছে। তবে, স্কুলে সহপাঠীর হাতে মার খাওয়ার জন্য মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। অন্যমনস্ক ছিল। সেই কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।’ তিনি বলেন, ‘যে সহপাঠী ওকে মেরেছ, তার নামও বলেছিল। বুঝতে পারিনি, এতবড় ঘটনা ঘটে যাবে! পুলিস এসেছিল। সমস্ত কিছু পুলিসকে জানানো হয়েছে।’ এক পুলিস আধিকারিক বলেন, দুর্ঘটনা হিসেবে ‘আন ন্যাচারাল ডেথ’ তথা একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুজনিত মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে, পরিবারের তরফে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের হলে, আইন অনুযায়ী ববস্থা নেওয়া হবে।