নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বাঙালির পয়লা বৈশাখ মানে হাঁড়ি ভর্তি রসগোল্লা-সন্দেশ। আবার দীপাবলি মানে লাড্ডু, কাজুবরফি, শোনপাপড়ি। দীপাবলির উপহারে এই মিষ্টির চাহিদাই বেশি। তাই স্বাস্থ্যবিধির কথা ভেবে এবার দীপাবলির এই উপহারের উপর বাড়তি নজর দিচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা খাদ্যসুরক্ষা দপ্তর। সল্টলেক, সেক্টর ফাইভ, লেকটাউন, বাগুইআটি, কেষ্টপুর, এয়ারপোর্ট, নিউটাউন, রাজারহাট সহ জেলাজুড়ে অভিযান চলছে। শুধু অভিযান নয়, সেখানে বিক্রেতাদের সচেতনও করছেন দপ্তরের আধিকারিকরা। যাতে উৎসবের সময় সব মানুষ সুস্থ থাকেন। দপ্তরের এই সিদ্ধান্তে খুশি সাধারণ মানুষ।
হোটেল, রেস্তরাঁ, স্ট্রিট ফুড থেকে মিষ্টির দোকান। একের পর এক জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে খাদ্যসুরক্ষা দপ্তর। লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন সল্টলেক সিটি সেন্টার লাগোয়া একটি রেস্তরাঁ এবং একটি মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড করে দপ্তর। সুরক্ষাবিধি লঙ্খনের অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার কৈখালি এলাকায় ভিআইপি রোডের ধারে একটি নামী খাদ্যপণ্যের আউটলেটে অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই আউটলেটে লাড্ডু, কাজুবরফি, শোনপাপড়ি রাখা ঠিকঠাক থাকলেও যে অংশে রেস্তরাঁ সেখানে এবং রান্নাঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল আরশোলা।
কিছুদিন আগে বসিরহাটে লাড্ডু খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। লাড্ডুর উপর ছত্রাক পড়ে গিয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। যেহেতু দীপাবলির উপহারে লাড্ডুর সঙ্গে কাজুবরফি ও শোনপাপড়ির বেশি চাহিদা তাই অন্যান্য অভিযানের সঙ্গে এই তিন ধরনের মিষ্টির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দপ্তরের দাবি, লাড্ডু, কাজুবরফি ও শোনপাপড়ি অনেকদিনের জন্য তৈরি করে রাখা হয়। নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে ব্যবহারের তারিখ দেওয়া থাকে। তবে অনেক সময় লাড্ডুতে ছত্রাক পড়ে যায়। তাই মেয়াদ ঠিক আছে কি না, বিক্রেতাদেরই খেয়াল রাখতে হবে। যেন কোনোভাবেই নষ্ট বা পচন ধরা জিনিসপত্র কোনো ক্রেতাকে বিক্রি না করা হয়। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা খাদ্যসুরক্ষা দপ্তরের ইনসপেক্টর প্রসেনজিৎ বটব্যাল বলেন, ‘দীপাবলির আগে সরকারের নির্দেশে আমাদের অভিযান চলছে। আইনি প্রক্রিয়া তো রয়েছেই। তবে আমরা সকলকে সচেতনও করছি। মিষ্টি ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করছি। সেখানে কী কী করণীয় তা বলে দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই উৎসবের দিনগুলি সহ সারা বছরই সব মানুষ সুস্থ এবং সুরক্ষিত থাকুক।’ -ফাইল চিত্র



