নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ: পালাবদলের পর রায়গঞ্জ শহরের বড় কালীপুজোতেও বদলের আঁচ। এবার কালীপুজোয় তৃণমূল জমানার ডাকসাইটে নেতারা কার্যত আড়ালে। অন্যান্য বারের মতো পুজো হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু সেই অর্থে তৃণমূল নেতাদের নামে যে কালীপুজোগুলির শহরে হাঁকডাক ছিল, জাঁকজমক হত, সেটা কতটা এবছর বা আগামীতে বজায় থাকবে? তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। কারণ তৃণমূল জমানার যে নেতারা সামনে দাঁড়িয়ে, কালীপুজোয় উৎসাহ দিতেন, প্রতিটাই ছিলো রায়গঞ্জ শহরের বিগ বাজেটের পুজো। রাজকীয় সাজসজ্জায় তৈরি হত সেই ক্লাবের পুজো মণ্ডপ, প্রতিমা, আলোকসজ্জা। বিপুল খরচ করে দূরদূরান্ত থেকে শিল্পী এনে বসত সাত দিনের রাত্রিকালীন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আসর, বিসর্জনের আগে শহর মাতানো বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। কিন্তু পালাবদলের পর সেইসব নেতাদের কেউ নিরুদ্দেশ। কাউকে পুলিশ খুঁজছে, কাউকে দীর্ঘ কয়েক মাস রায়গঞ্জ শহরে দেখা যায়নি। কেউ আবার রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার চিন্তায় আছেন। স্বাভাবিকভাবে কালীপুজোর ১১ দিন আগে বিগবাজেটের সেই শহুরে পুজোগুলোর আড়ম্বর এখনও দেখা যাচ্ছে না।
রায়গঞ্জ শহরের বিগত কয়েক বছরে সাড়া ফেলে দেওয়া উকিলপাড়া আদর্শ পল্লির রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের কালীপুজো ও তার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যা বিগত কয়েক বছরে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার বান্টির পুজো নামে পরিচিতি পেয়েছিল। এবার সেই পুজোর আড়ম্বর কতটা হবে তা নিয়ে সন্দিহান ওয়াকিবহাল মহল। একইভাবে মিলনপাড়ার বয়েজ সুকান্ত ক্লাব। যেটি তৃণমূলের ছাত্রনেতা রন্তুর পুজো নামে পরিচিত ছিল। সেটিও এবার পুরোনো আড়ম্বরে হবে না বলেই জানা গিয়েছে। ওই ক্লাবের তরফে জানা গিয়েছে এবার তাদের পুজোর সেই জাঁকজমক থাকবে না। কারণ গত বছর তৃণমূল নেতা নব্যেন্দু ঘোষের অকাল প্রয়াণ হয়েছে। তবে পুজো হবে। কালীপুজো হলেও এবার পুজো উপলক্ষ্যে সাত দিনের রাত্রিকালীন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব নেতাজিপল্লির বিপিএস ক্লাবে। এব্যাপারে ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা তথা তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলার রতন মজুমদার বলেন, ধুমধাম করেই কালীপুজো হচ্ছে। কিন্তু সাত দিনের রাত্রিকালীন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এমনকী বিসর্জনের সময় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজনও এবার নাও হতে পারে।
তবে রায়গঞ্জ স্টেশন চত্বরে মুনলাইট ক্লাবের পুজো যেটি, তৃণমূল নেতা ভোলা পালের পুজো হিসেবে পরিচিত, রার যাবতীয় কার্যক্রম ফি বছরের মতোই হবে। তৃণমূল নেতা নিজেই সে কথা নিশ্চিত করেছেন। সাত দিনের রাত্রিকালীন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জাঁকজমকপূর্ণ পুজোর আয়োজন দুইই সমানতালে হচ্ছে।



