দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন
দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন
অজয় দেবগন, জয়দীপ আহলওয়াত, প্রকাশ রাজ, টাবু
কে খুন করেছে, তা দর্শক জানেন। কিন্তু প্রমাণ করা যায়নি। ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’-এ কোন কনক্লুশনটা হল? অর্থাৎ আদালতে অপরাধ প্রমাণ করা গেল কি? এসব প্রশ্ন মাথায় নিয়ে যদি আপনি সিনেমাটি দেখতে যান, হতাশ হবেন না। ভালো থ্রিলারের ফর্মুলা মেনেই এই ফ্র্যাঞ্চাইজির আপাতত শেষ ছবি পরিচালনা করেছেন অভিষেক পাঠক। অজয় দেবগনের প্রায় সংলাপহীন অভিব্যক্তি, চোখ দিয়ে অভিনয়, কমলেশ সাওয়ান্তের দুরন্ত কমিক টাইমিং, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মা-বাবার ভূমিকায় টাবু ও রজত কাপুরের অভিনয়— সব মশলাই ঢিমে আঁচে সুস্বাদু রান্না হয়েছে। তবে যাবতীয় স্বাদ কেড়ে নিলেন জয়দীপ আহলওয়াত। অক্ষয় খান্না ‘তরুণ আহলওয়াত’ চরিত্রটি ছেড়ে দেওয়ার পর এই ফ্র্যাঞ্চাইজির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। তার যোগ্য জবাব দিয়েছেন জয়দীপ।
টিভি মেকানিক ক্লাস ৪ ফেল বিজয় সালগাঁওকর (অজয় দেবগন) পরপর এমন সব ঘটনা ঘটায়, যাতে প্রত্যেকবার তাকে নিরপরাধ বলে মনে হয়। তা সত্যি না হলেও সেটাই বিশ্বাস করতে বাধ্য হয় তামাম পুলিশ, আদালত। এসপি ক্রাইম ব্রাঞ্চ রাজদীপ সিং তোমার (জয়দীপ আহলওয়াত), আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ শেট্টির (প্রকাশ রাজ) মতো ক্ষুরধার বুদ্ধিমানরাও বোকা বনে যায় বিজয়ের সামনে। হিন্দির ‘দৃশ্যম ৩’-এ রিমেকের সুযোগ থাকলেও সেই পথে হাঁটেননি পরিচালক। আড়াই বছর ধরে তিনি তৈরি করেছেন নিজস্ব গল্প। ট্যুইস্ট, আর টানটান উত্তেজনার জোরে যা ছাপিয়ে গিয়েছে আসলটিকেও। ইন্টারভ্যালের আগে অজয় ও জয়দীপের মুখোমুখি দৃশ্যটি যদি এই ছবির অন্যতম আকর্ষণ হয়, তাহলে বিরতির পর অপেক্ষা করছিল আরও বড়ো চমক। দ্বিতীয় ভাগে কোর্টরুম ড্রামায় প্রকাশ রাজ অসাধারণ। এত কিছুর পরেও এই ছবিকে ফুল মার্কস দেওয়া গেল না। লজিকে বেশ কিছু গণ্ডগোল রয়েছে। দেশের সব আদালত যদি এত দ্রুতগতিতে কাজ করত, তাহলে ‘তারিখ পে তারিখ’ সংলাপ ভুল প্রমাণিত হত। বিজয়ের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর কেন তদন্তের আওতায় এল না, প্রশ্ন জাগায়। তা সত্ত্বেও প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সিট ছেড়ে উঠতেই ইচ্ছা করবে না। টাবুর মুখে ‘আমি বিচার নয়, বদলা চাই’— সংলাপ বহুদিন মনে থাকবে। বিজয়ের স্ত্রী নন্দিনী (শ্রিয়া শরণ) এই ছবিতে জড়োসড়ো নন।
তাহলে দর্শকের পাওনা কী? ‘ফিল্মো কো সচ হোনা জরুরি নেহি হ্যায়, সচ লাগনা চাহিয়ে’— বিজয়ের এই সংলাপই সিনেমা হল থেকে বেরিয়েও সত্যি বলে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করবে।
শান্তনু দত্ত