নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রশাসনিক দপ্তরগুলির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। সে কারণে তৈরি হয়ে যাওয়ার প্রায় চারবছর পরও বন্ধ হাওড়া জেলা আদালতের নিউ বিল্ডিং।
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রশাসনিক দপ্তরগুলির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। সে কারণে তৈরি হয়ে যাওয়ার প্রায় চারবছর পরও বন্ধ হাওড়া জেলা আদালতের নিউ বিল্ডিং।
এজলাসে জায়গার অভাব, বসার জায়গা পর্যন্ত না থাকা ইত্যাদি একাধিক সমস্যা নিয়ে জেরবার আদালতের বিচারক ও আইনজীবীরা। শেষে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তথা হাওড়া জোনাল জজের হস্তক্ষেপে পয়লা জুলাই চালু হতে চলেছে এই নিউ বিল্ডিং। রবিবার নিউ বিল্ডিংয়ের ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা দেখতে যায় দমকল।
১৯৯৪ সালে হাওড়া জেলা হাসপাতালের উল্টোদিকে থাকা তৎকালীন জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের কার্নিশ ভেঙে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর ফৌজদারি আদালত উল্টোদিকের নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে কোর্ট রুম, আইনজীবীদের এজলাস, বিভিন্ন অফিসের সংখ্যা বেড়ে চলার কারণে জায়গার অভাব ক্রমশ প্রকট হতে থাকে। ২০১১ সালে রাজ্য সরকার কোর্ট চত্বরের পাশে ২২ কাঠা জমি দেয়। সেখানে থাকা এসপি অফিস সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ২০১৮ সালে শুরু হয় নিউ বিল্ডিংয়ের প্রথম পর্যায়ের দশ তলা বিল্ডিং তৈরির কাজ। প্রায় ১৪ কোটি টাকা খরচ করে ২০২১ সাল নাগাদ সেই কাজ শেষ করে পিডব্লুডি। আইনজীবীদের অভিযোগ, এরপর গরিমসির কারণে বিদ্যুৎ, আইটি, আসবাব তৈরির কাজ শেষ করতেই লেগে যায় চারবছর। কিন্তু তারপরও প্রশাসনিক গাফিলতি থেকে যায়। সে কারণে চালুই করা যায়নি নিউ বিল্ডিং। বাধ্য হয়ে ক্রিমিনাল কোর্ট বার লাইব্রেরি গত ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিত অভিযোগ জানায়। এরপর হস্তক্ষেপ করেন হাওড়া জোনাল জজ রবি কিষাণ কাপুর। চলতি মাসে দু’বার নিউ বিল্ডিং পরিদর্শন করেন তিনি। তারপর পয়লা জুলাই চালু করার নির্দেশ দেন। জানা গিয়েছে, আপাতত চারটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট স্থানান্তরিত হবে নিউ বিল্ডিংয়ে। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে পাশেই আর একটি দশতলা বিল্ডিং তৈরির কাজ শুরু হবে। সেখানে বাদবাকি কোর্ট, চারটি বার লাইব্রেরি, ১৫০ আসনের কনফারেন্স রুম তৈরি হবে। থাকবে মহিলা আইনজীবীদের জন্য একটি কমন রুম।
জোনাল জজের নির্দেশের পর জুলাই মাসের শুরুতে নিউ বিল্ডিং চালু করতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। রবিবার দমকল ফায়ার সেফটি মক ড্রিল করে। ফায়ার লাইসেন্সের কাজ মিটলেই বিল্ডিং চালু করতে আর কোনও জটিলতা থাকবে না বলে জানা গিয়েছে। হাওড়া ক্রিমিনাল কোর্ট বার লাইব্রেরির সভাপতি সমীর বসু রায়চৌধুরী বলেন, ‘আইনজীবীরা নর্দমার উপর বসে কাজ চালাচ্ছেন। আমরা চাই জোনাল জজের নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করুক প্রশাসন। পাশাপাশি পুজোর আগেই যেন দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয় তা দেখা হোক।’ - নিজস্ব চিত্র