নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বাড়ি থেকে অসুস্থ ল্যাব্রাডরের রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু, ল্যাবে গিয়ে সেই রক্তের পরীক্ষাই করা হয়নি। অথচ, ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়েছিল ভুয়ো রিপোর্ট। সেই রিপোর্ট দেখে চিকিৎসাও হয়েছিল! ভুল হয় চিকিৎসাতেও। তার জেরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে ‘গোবলু’। এহেন ঘটনায় অভিযুক্তের শাস্তি চেয়ে বাগুইআটি থানার দ্বারস্থ হয়েছেন ল্যাব্রাডরের ক্ষুব্ধ মালকিন। যে যুবক বাড়িতে এসে রক্ত সংগ্রহ করেছিল, তার নামে এফআইআরও হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বাগুইআটির হাতিয়াড়া রোড এলাকায় থাকেন প্রিয়াঙ্কা মিত্র ওরফে পিঙ্কু মিত্র। তাঁরই ল্যাব্রাডর ‘গোবলু’ অসুস্থ। তিনি গত আগস্ট মাসে গোবলুকে নিয়ে এক পশু চিকিৎসকের কাছে যান। ওই চিকিৎসক গোবলুর রক্ত পরীক্ষা করাতে বলেছিলেন। সেই মতো পিঙ্কু মিত্র রক্ত সংগ্রহের করার জন্য একজনকে ফোন করে বাড়িতে ডাকেন। গত ২২ আগস্ট ওই যুবক তাঁর বাড়িতে গিয়ে পোষ্যের রক্ত সংগ্রহ করেন। কলকাতার শোভাবাজার এলাকার একটি ল্যাবে পরীক্ষা করানোর কথা ছিল। পরদিন ২৩ আগস্ট গোবলুর রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। তারপর চিকিৎসা শুরু হয়।
কিন্তু, রিপোর্ট দেখে সন্দেহ হয়েছিল পিঙ্কু মিত্রের। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে অন্য জায়গা থেকে দ্বিতীয়বার রক্ত পরীক্ষা করানো হয়। তাতে দেখা যায়, নয়া রিপোর্ট সম্পূর্ণ আলাদা! পিঙ্কু মিত্র বলেন, এই ঘটনার পরই আমি গত সপ্তাহে শোভাবাজার এলাকার ওই ল্যাবে যাই। ল্যাবের মালিককে অর্ডার নম্বর দেখাই। তিনি সেই অর্ডার দেখে বলেন, এখানে তো এই নম্বরে কোনও পরীক্ষাই হয়নি! তারপর ল্যাব মালিকই ওই রিপোর্ট দেখে বলেন, গত ৮-৯ মাস আগে একটি অন্য পোষ্যের রক্ত পরীক্ষা হয়েছিল। সেই রিপোর্টই কপি করে গোবলুর ভুয়ো রিপোর্ট বানিয়েছিল রক্ত সংগ্রাহক ওই যুবক।
রবিবার বাগুইআটি থানায় যান পিঙ্কু মিত্র। অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর কথায়, এটা মারাত্মক অপরাধ। ভুয়ো রক্তের রিপোর্ট দেখে ভুল চিকিৎসা হয়েছে। তাতে গোবলু আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। জানতে পেরেছি, ওই যুবক অনেকের পোষ্যের সঙ্গে একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।