নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তৃণমূল নেতা কুরবান শা খুনের মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে চার পুলিস অফিসার ও কর্মী বিরূপ ঘোষিত হয়েছেন। তালিকায় একজন ইনসপেক্টর, দু’জন সাব ইনসপেক্টর এবং একজন ভিলেজ পুলিস আছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তমলুক জেলা ও দায়রা আদালত থেকে মামলা স্থানান্তর হয়েছে কলকাতা নগর দায়রা আদালতে। সাক্ষী এবং অভিযুক্তরা অনেক সময় গরহাজির থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। এই কারণে সংশোধনাগারে থাকা আট অভিযুক্তের মধ্যে সাতজনই জামিন পেয়েছেন। সামনের লড়াই আরও কঠিন জেনেও এই মামলায় শেষ দেখতে চায় কুরবান শা-র পরিবার। এরআগে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী শেখ ইমরানকে অপহরণ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় এক ডজন কেস হয়েছে। কুরবান শা-র দাদা আফজল শা-র বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁরা নিরাপত্তা রক্ষী পেয়েছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও ওই তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে অনড় গোটা পরিবার।
২০১৯ সালে ৭ অক্টোবর পাঁশকুড়া থানার মাইসোরায় দলীয় কার্যালয়ের মধ্যে খুন হন কুরবান শা। সেই সময় ওই থানার সেকেন্ড অফিসার ছিলেন বিনয় মান্না। বর্তমানে ইনসপেক্টর প্রমোশন পেয়ে বসিরহাট পুলিস জেলায় কর্মরত। এছাড়াও ওই সময় পাঁশকুড়া থানার এএসআই ছিলেন দিলীপ চক্রবর্তী ও আমিনুল ইসলাম। তাঁরা এসআই পদে প্রমোশন পেয়েছেন। দিলীপবাবু হলদিয়া ভবানীপুর থানায় কর্মরত। আমিনুল সাহেব ভূপতিনগর থানায় কর্মরত। তাঁরা প্রত্যেকেই ওই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। তাঁরা তিনজনেই বিরূপ ঘোষিত হয়েছেন। এছাড়াও মাইসোরার ভিলেজ পুলিস কাজি নজরুল ওই মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বিরূপ ঘোষিত হয়েছেন। মামলায় মোট ১০৪ জন সাক্ষী। ৭৬তম সাক্ষী হিসেবে আমিনুল সাহেব ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। সরকারি আইনজীবী গণেশ মাইতি ৫০ দিন ধরে ওই পুলিস অফিসারকে আদালতে ‘ক্রশ এগজামিনেশন’ করার পর তাঁকে বিরূপ ঘোষণা করেছেন। এখনও তাঁর সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
খুনের ঘটনার পর পরই ওই পুলিস অফিসারদের নিয়ে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গঠন করা হয়েছিল। সিটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা বিরূপ ঘোষিত হওয়ার ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ। এরমধ্যেই প্রায় পাঁচ বছর জেলবন্দি থাকা সাত অভিযুক্ত শর্ত সাপেক্ষে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেককে কলকাতার মধ্যে থাকতে হবে। তাঁরা পূর্ব মেদিনীপুরে ঢুকতে পারবেন না।
পুলিস অফিসার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বিরূপ ঘোষিত হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ মামলায় হাল ছাড়তে নারাজ কুরবান শা-র দাদা আফজল শা। তিনি বলেন, এই মামলার গোড়া থেকেই নানাভাবে বাধা আসতে শুরু করেছিল। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী শেখ ইমরানকে তমলুকে আদালতে যাওয়ার পথে অপহরণ করা হয়। আমাদের দু’জনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, চুরি সহ মোট ছ’টি মামলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। হাইকোর্ট সেই রায় বহাল রেখেছে। তারপরও নিরাপত্তা রক্ষী তুলে নেওয়া হয়। কোর্টে মামলা দায়ের করার পর সংখ্যায় কমিয়ে নিরাপত্তা রক্ষী দেওয়া হয়েছে। এসব বাধা মাথায় নিয়ে আমরা আইনি লড়াই করছি। সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। স্বাভাবিকভাবে পুলিস অফিসাররা বিরূপ ঘোষিত হলেও আমরা আশাবাদী।