Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মাটি নিয়ে পুলিশ-ভূমি দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা চায় কুমোরটুলি, শুনশান পটুয়াপাড়া, রুটি‑রুজির টানে চিন্তায় মৃৎশিল্পীরা

কুমোরটুলিতে মাটি না আসায় প্রতিমা তৈরির কাজ থমকে গেছে। শিল্পীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চায়। বিস্তারিত পড়ুন।

মাটি নিয়ে পুলিশ-ভূমি দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা চায় কুমোরটুলি, শুনশান পটুয়াপাড়া, রুটি‑রুজির টানে চিন্তায় মৃৎশিল্পীরা
  • ৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতিমা তৈরির মাটি ইস্যুতে চলতি সপ্তাহে ফের দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ এবং ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা চায় কুমোরটুলি। অন্যদিকে উলুবেড়িয়া থেকে জলপথে নৌকা করে কুমোরটুলিতে মাটি আসা বন্ধ নিয়ে হাওড়া জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও কথা বলতে চান পটুয়াপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। তাঁদের সংগঠনের অন্যতম কর্তা বাবু পাল বুধবার বলেন, ‘পরিস্থিতি ক্রমশই খারাপের দিকে যাচ্ছে। মাটি না আসার কারণে প্রতিমা তৈরির যাবতীয় কাজকর্ম শিকেয় উঠেছে। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক হয় তার জন্য স্থানীয় বিধায়ক পূর্ণিমা চক্রবর্তী ও মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পাশাপাশি ডায়মন্ডহারবার থানা ও ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরে উদ্বেগ প্রকাশ করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দুই দপ্তর থেকেই বিষয়টি সহানুভুতির সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের বক্তব্য, এই জট খোলা না পর্যন্ত আমাদের ধারাবাহিক লড়াই চলবে।’ মৃৎশিল্পীদের একাংশের বক্তব্য‌, এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রচুর সংখ্যক মানুষ। তাই এই বিষয়ে সমস্যা না মিটলে তাঁদের রুটি‑রুজির পথ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে তাঁদের পরিবার‑পরিজন নিয়ে পথ বসতে হবে। তাই আমরা চাই‑ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হোক। কাজকর্মে ফের ‘গতি’ আসুক।

Advertisement

বুধবারও কুমোরটুলিতে ছিল না কোনো ব্যস্ততা। চারদিক ছিল একেবারে শুনশান। প্রতিটি মৃৎশিল্পীর ঘরে কাজের গতি ছিল একেবারে শ্লথ। বনমালি সরকার স্ট্রিটে কয়েকটি মৃৎশিল্পীর ঘরে গিয়ে দেখা যায় সেখানে বাঁশ কেটে বিচালি দিয়ে বিভিন্ন প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। শিল্পী চয়না পাল, রাজা পালরা বলেন, ‘যেহেতু মাটি নেই, তাই হাত গুটিয়ে বসে না থেকে কিছু প্রতিমার কাঠামোর কাজ এগিয়ে রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে লক্ষ্মী, কালী প্রতিমার মতো কিছু প্রতিমার কাঠামোর কাজটাই বেশি পরিমাণে করে রাখা হচ্ছে। তা তৈরি করে গোডাউনে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ প্রবীণ শোলা শিল্পী শম্ভুনাথ মালাকার বুধবার আক্ষেপ করে বলেন, ‘এমন কুমোরটুলি এর আগে কোনোদিন দেখিনি। মাটিই যদি না পাওয়া যায়, তাহলে কী দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হবে? তিন সপ্তাহের বেশি সময় গড়িয়ে গেল, অথচ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হল না, এটাই বড় আশ্চর্যের।’ কয়েকজন মৃৎশিল্পী বলেন, ‘মাটি না আসায় বায়না বন্ধ। কারণ বায়না নিলে যদি প্রতিমা ঠিকসময় পুজো উদ্যোক্তাদের না দেওয়া যায়, তাহলে গণ্ডগোল বাধবে। আর সেই কার঩ণেই বায়না বন্ধ রাখা হয়েছে।’-নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ